Bengal Liberty : কলামিস্ট: প্রাইমা হোসেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মেরিল্যান্ড স্টেট আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সহ-সভাপতি বিশিষ্ট সমাজ সেবিকা ও সংগঠক.
বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতি আজিজ খান ভাইয়ের একটি ফেসবুক পোস্ট নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তিনি তার পোস্টে লিখেছেন
“জ্বালানি নিরাপত্তাই জাতীয় নিরাপত্তা”
“জাপানে JERA-র ফুতসু পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং এলএনজি টার্মিনাল পরিদর্শনের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন।
আরও খবর
মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউক্রেনের সংকট প্রমাণ করেছে যে জ্বালানি নিরাপত্তা জাতীয় নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। নির্ভরযোগ্য এবং দক্ষ জ্বালানি অবকাঠামো তৈরিতে জাপান মূল্যবান শিক্ষা দেয়।
সামিট জাপানের JERA-র সাথে তার অংশীদারিত্ব নিয়ে গর্বিত এবং মেঘনাঘাটে প্রায় ১,৭০০ মেগাওয়াট অত্যন্ত দক্ষ কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা তৈরি করেছে। জাপানের সাফল্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে, সামিট এবং JERA মাতারবাড়িতে একটি অনশোর এলএনজি টার্মিনালেরও প্রস্তাব করেছে।
সামনের দিকে তাকিয়ে, সামিট তিনটি কৌশলগত ক্ষেত্রে প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (৩৭,০০০ কোটি টাকা) বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত এফএসআরইউ – বাংলাদেশের এলএনজি আমদানি ক্ষমতা শক্তিশালী করা।অনশোর এলএনজি টার্মিনাল – দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এআই এবং হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টার – উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎকে ডিজিটাল অবকাঠামো এবং রপ্তানি সুযোগে রূপান্তর করা।
আমরা আন্তরিকভাবে আশা করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং তার সরকার জাতীয় স্বার্থে এই সুযোগগুলো বিবেচনা করবেন।”
বিশ্লেষণ ,জাপান সফরে শূন্য হাতে ফিরতে হবে কেন?
আমাদের বিশ্লেষণ বলছে, তারেক রহমানের এই জাপান সফর থেকে কার্যত কিছুই আসবে না। শূন্য হাতে ফিরতে হবে। এর কারণ তিনটি:
বাংলাদেশের জ্বালানি ও জাতীয় নিরাপত্তা – দুটোই ভারতের নিরাপত্তা বলয়ের সাথে জড়িত। মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর, এলএনজি টার্মিনাল – এই সব কৌশলগত স্থাপনা বঙ্গোপসাগরে। এখানে ভারতের সম্মতি ও সহযোগিতা ছাড়া জাপান এক পা-ও এগোবে না। জাপান কখনোই ভারতকে ডিঙিয়ে বাংলাদেশে ৩ বিলিয়ন ডলারের কৌশলগত বিনিয়োগ করবে না। এটাই বাস্তবতা।
জাতীয় নিরাপত্তা প্রশ্নে ভারতই মূল ফ্যাক্টর
তারেক রহমানের এই সফর শুধু জ্বালানি সফর নয়। এর ভেতরে লুকিয়ে আছে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ। জাপান সরকারকে বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে যে, বর্তমান সরকার স্থিতিশীল। কিন্তু জাপান খুব ভালো করেই জানে, শেখ হাসিনা ছাড়া বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়।
তারেক রহমানের এই সফর শুধু জ্বালানি সফর নয়। এর ভেতরে লুকিয়ে আছে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ। জাপান সরকারকে বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে যে, বর্তমান সরকার স্থিতিশীল। কিন্তু জাপান খুব ভালো করেই জানে, শেখ হাসিনা ছাড়া বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়।
শেখ হাসিনার আমলে জাপান ছিল সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী
শেখ হাসিনার সরকারের সময় জাপান ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী। ৬০০ কোটি ডলারেরও বেশি বিনিয়োগে মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর, মেট্রোরেল লাইন-৬, হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, যমুনা রেল সেতু – সবই শেখ হাসিনা ও জাপানের বন্ধুত্বের ফসল।
জাপান JICA-র মাধ্যমে বাংলাদেশে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে, যার ৮০% হয়েছে শেখ হাসিনার গত ১৫ বছরে। জাপান জানে, উন্নয়ন মানে শেখ হাসিনা।
আজিজ খান ভাইয়ের ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাবটি আসলে ৫০ বছরের আস্থার প্রতিফলন। এই আস্থা তৈরি হয়েছিল শেখ হাসিনার স্থিতিশীল সরকারের আমলে। অস্থিতিশীল, অনির্বাচিত সরকারের কথায় জাপানের মতো দেশ বিনিয়োগ করবে না।
জ্বালানি নিরাপত্তাই যদি জাতীয় নিরাপত্তা হয়, তাহলে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সবার আগে প্রয়োজন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। আর সেই স্থিতিশীলতা দিতে পারবে একমাত্র শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার।
তাই জাপান সফর দিয়ে কোনো লাভ হবে না। ভারতের পরামর্শ ছাড়া, শেখ হাসিনার প্রশ্নের সমাধান ছাড়া এই অঞ্চলে কোনো বড় বিনিয়োগ আলোর মুখ দেখবে না।


