Bengal Liberty : পুকুরের জলে ভাসছে একের পর এক ভোটার কার্ড! রবিবার সন্ধ্যায় এমনই এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল বীরভূমের নানুরের বন্দর গ্রামের দক্ষিণ পাড়ায়। পুকুর থেকে একাধিক ভোটার কার্ড উদ্ধার হওয়ার পর স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, কীভাবে ওই কার্ডগুলি সেখানে এল? কারা সেগুলি পুকুরে ফেলল? উদ্ধার হওয়া কার্ডগুলি কার নামে, তা নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা। স্থানীয় সূত্রে খবর, কার্ডগুলি নানুরের কড্ডা গ্রামের বাসিন্দাদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যায় এক ব্যক্তি ওই পুকুরপাড় দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় তাঁর নজরে আসে, পুকুরের জলে কাগজের মতো কিছু একটা ভাসছে। প্রথমে বিষয়টি তেমন গুরুত্ব না দিলেও, কাছে গিয়ে ভালো করে দেখতেই চমকে ওঠেন তিনি। দেখতে পান, জলের মধ্যে ভাসছে একাধিক ভোটার কার্ড। বিষয়টি বুঝতে পেরেই তিনি আশপাশের বাসিন্দাদের খবর দেন।
এরপর খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুকুরপাড়ে ভিড় জমাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের সহযোগিতায় পুকুরের জল থেকে একে একে উদ্ধার করা হয় একাধিক ভোটার কার্ড। পরে উদ্ধার হওয়া কার্ডগুলি স্থানীয় এক সিভিক ভলান্টিয়ারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সেগুলি নানুর থানায় জমা দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। তবে ঠিক কতগুলি ভোটার কার্ড উদ্ধার হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
আরও খবর
স্থানীয় সূত্রের দাবি, উদ্ধার হওয়া ভোটার কার্ডগুলির সবক’টিই নানুরের কড্ডা গ্রামের বাসিন্দাদের নামে রয়েছে। ফলে বন্দর গ্রামের পুকুরে কড্ডা গ্রামের বাসিন্দাদের ভোটার কার্ড কীভাবে এল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। কার্ডগুলি কি কোনও নির্দিষ্ট জায়গা থেকে একসঙ্গে পুকুরে ফেলা হয়েছে, নাকি অন্য কোনও কারণে সেগুলি সেখানে এসে পড়েছে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে এই ঘটনার পিছনে কী কারণ রয়েছে, তা জানতে তদন্তের দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।
ভোটার কার্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র। তাই একসঙ্গে একাধিক কার্ড পুকুরে পড়ে থাকার ঘটনাকে হালকাভাবে নিতে নারাজ এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের বক্তব্য, কার্ডগুলি কীভাবে ওই পুকুরে এল, কারা সেগুলি সেখানে ফেলল এবং সংশ্লিষ্ট কার্ডগুলির মালিকেরা বিষয়টি জানেন কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। উদ্ধার হওয়া কার্ডগুলি পুলিশের হাতে জমা পড়ার পর সেগুলি পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত প্রশাসন বা পুলিশের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সামনে আসেনি। ভোটার কার্ডগুলি কীভাবে পুকুরে এল, তা জানতে তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উদ্ধার হওয়া কার্ডগুলির প্রকৃত মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টির বিস্তারিত তথ্য সামনে আনা সম্ভব হবে বলেই মনে করছেন তাঁরা। আপাতত নানুরের এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় কৌতূহল ও চর্চা অব্যাহত।


