Indranil Sen
গ্রেফতার ইন্দ্রনীল সেন

টেন্ডার ও মাস আর্ট মিলিয়ে দুর্নীতির অঙ্ক ১০০ কোটির বেশি! ইন্দ্রনীল-কাণ্ডের তদন্তে নতুন তথ্য পুলিশের

পুলিশ সূত্রে খবর, পর্যটন দফতরের একাধিক কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে গিয়ে কিছু অনিয়মের তথ্য সামনে এসেছে। সেই কাজের বরাত, আর্থিক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পরীক্ষা করতে চাইছেন তদন্তকারীরা। এ বিষয়ে পর্যটন দফতরের কাছে প্রয়োজনীয় নথি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। মাস আর্টের কাজের সঙ্গে যুক্ত আর্থিক লেনদেনও তদন্তের আওতায় রয়েছে। সংস্থার কাজে ইউনেস্কোর লোগো ব্যবহারের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে ইউনেস্কোকে চিঠি পাঠিয়েছে পুলিশ। যদিও এখনও তার কোনও উত্তর আসেনি।

তদন্তে ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী মধুছন্দা সেনের ভূমিকা নিয়েও একাধিক তথ্য উঠে এসেছে বলে দাবি পুলিশের। ইতিমধ্যে তাঁকে দু’দিন ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্তকারীরা। ইন্দ্রনীলের স্ত্রী-সহ মোট আট থেকে ন’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, মাস আর্টের কাজকর্ম সম্পর্কে মধুছন্দা অবগত ছিলেন। সংস্থার বিভিন্ন কাজের বিষয়ে তাঁরও ধারণা ছিল বলে তদন্তে জানা গিয়েছে। স্বামী-স্ত্রীকে মুখোমুখি বসিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সেই পর্বে দু’জনের বক্তব্যের মধ্যে বেশ কিছু মতানৈক্য সামনে এসেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। মধুছন্দার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এ দিন ইন্দ্রনীলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এ দিকে, ইন্দ্রনীল সেনের মেয়েকে এ দিন লালবাজারে হাজিরার জন্য ডাকা হয়েছিল। কিন্তু অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি পুলিশের কাছে সময় চেয়েছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁকে আগামী কাল হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে হাজির না হলে ফের নোটিস পাঠানো হতে পারে।

তদন্তের পাশাপাশি আইনি দিকটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ইন্দ্রনীলের হিসাব-বহির্ভূত টাকার উৎস ও লেনদেনের বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা। এই মামলায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ) যুক্ত করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে সূত্রের খবর। সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এই আইনে মামলাটি প্রথম হতে পারে বলেও তদন্তকারী মহলে আলোচনা রয়েছে। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন আইন যুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রেখেছে পুলিশ। সব মিলিয়ে টেন্ডার, মাস আর্টের কাজ এবং আর্থিক লেনদেনের একাধিক সূত্র ধরে তদন্তের পরিধি বাড়াচ্ছে লালবাজার।

Bengal Liberty