Bengal Liberty: কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক শহরের নগর পরিকাঠামো ও সৌন্দর্যায়নে বড়সড় পরিকল্পনা রাজ্য সরকারের। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা NBCC-র সঙ্গে মোট ৯টি সমঝোতাপত্র বা মউ স্বাক্ষরিত হল। মঙ্গলবার নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের উপস্থিতিতে এই চুক্তিগুলি স্বাক্ষরিত হয়। প্রকল্পগুলির পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে NBCC-কে প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। পুরনো সরকারি আবাসনের পুনর্বিকাশ থেকে বস্তি পুনর্গঠন, হকারদের জন্য নির্দিষ্ট জোন তৈরি থেকে শুরু করে গঙ্গার দুই পাড়ের সৌন্দর্যায়ন—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে এই পরিকল্পনায়।

প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলির মধ্যে অন্যতম কলকাতা ও হাওড়া সংলগ্ন গঙ্গার দুই পাড়ের উন্নয়ন। মুম্বইয়ের মেরিন ড্রাইভের আদলে এই এলাকাকে সাজিয়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সেখানে চার লেনের রাস্তা, পথচারীদের জন্য পৃথক হাঁটার পথ, সাইকেল ট্র্যাক, হোটেল এবং অফিস তৈরির ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি, কলকাতার বস্তি এলাকাগুলির পুনর্বিকাশের মাধ্যমে বাসিন্দাদের স্থায়ী পাকা আবাসনের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
শহরের ফুটপাত হকারমুক্ত করার পাশাপাশি তাঁদের জীবিকা সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্যে ব্যাঙ্ককের আদলে পরিকল্পিত হকার জোন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট জায়গায় হকারদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া বিধাননগর পুরনিগম এলাকার পুরনো সরকারি আবাসনগুলির আধুনিকীকরণ ও পুনর্বিকাশের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হবে।
আরও খবর
ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে কলেজ স্ট্রিটের পুনর্গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। বইপাড়ার ঐতিহাসিক চরিত্র অক্ষুণ্ণ রেখেই সেখানে আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। একই ভাবে, ট্যাংরার চায়নাটাউনের নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বজায় রেখে আন্তর্জাতিক মানের পরামর্শদাতা ও স্থপতিদের সহযোগিতায় উন্নয়ন করা হবে।
এ ছাড়াও চন্দননগরের নদীতীরবর্তী এলাকার সৌন্দর্যায়ন এবং মায়াপুরে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ইসকন মন্দিরে আসা পর্যটকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে নবদ্বীপ পুরসভা এলাকার পরিকাঠামোরও উন্নয়ন করা হবে। সব মিলিয়ে, ৯টি মউ স্বাক্ষরের মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন শহরে আবাসন, যোগাযোগ, পর্যটন ও নাগরিক পরিষেবার পরিকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা সামনে আনল নগরোন্নয়ন দফতর।


