Bengal Liberty: বিজেপির বুথ সভাপতির স্ত্রী ও মেয়েকে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে। জীবনতলা থানার অন্তর্গত দাহারানি গ্রামে এই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। আক্রান্ত পরিবারের অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে তাঁদের বাড়িতে ঢুকে হামলা চালানো হয়। মারধর করা হয় বুথ সভাপতির স্ত্রী ও মেয়েকে। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই দু’জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা। তবে কী কারণে এই হামলা, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দাহারানি গ্রামের ১১২ নম্বর বুথের বিজেপি সভাপতি আতিয়ার রহমান সরদারের বাড়িতে রাতের দিকে কয়েক জন ব্যক্তি ছাগলের ঘরের কাছে দাঁড়িয়েছিলেন। বিষয়টি নজরে আসতেই আতিয়ার রহমানের স্ত্রী তাঁদের পরিচয় এবং সেখানে দাঁড়িয়ে থাকার কারণ জানতে চান। অভিযোগ, সেই প্রশ্নকে কেন্দ্র করেই ওই মহিলার সঙ্গে কয়েক জনের বচসা শুরু হয়। বচসা ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপরই তাঁকে এবং তাঁর মেয়েকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। তাঁদের চিৎকার শুনে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে আহত মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে সেখানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে।
আক্রান্ত পরিবারের অভিযোগ, গত ৪ মে ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া কয়েক জনের সঙ্গেই তাঁদের বিবাদ চলছিল। তাঁদেরই একাংশ এই হামলার পিছনে রয়েছে বলে অভিযোগ আক্রান্ত পরিবারের। পরিবারের আরও দাবি, আগের সরকারের আমলেও একাধিকবার তাঁদের উপর হামলা চালানো হয়েছিল। এমনকি বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছিল। ফলে সাম্প্রতিক এই হামলার পিছনেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থাকতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা।
আরও খবর
ঘটনার খবর পেয়ে জীবনতলা থানার পুলিশ তদন্তে নামে। ইতিমধ্যেই দু’জনকে আটক করে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। হামলার প্রকৃত কারণ কী, কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং এর পিছনে কোনও রাজনৈতিক যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি আক্রান্তদের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দাহারানি গ্রামে চাপা উত্তেজনা রয়েছে। এলাকায় যাতে নতুন করে কোনও অশান্তি না ছড়ায়, সে দিকেও নজর রাখছে পুলিশ। যদিও এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও রাজনৈতিক দলের তরফে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পুলিশের তদন্তের পরই হামলার নেপথ্যে থাকা কারণ এবং অভিযুক্তদের ভূমিকা স্পষ্ট হবে।


