Bengal Liberty: চোরবাগানের দুর্ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যুর পর উৎসবের মরশুমে নিরাপত্তা নিয়ে আর কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ রাজ্য প্রশাসন। কালীপুজো, দীপাবলি, ছটপুজো, জগদ্ধাত্রী পুজো এবং কার্তিক পুজোকে সামনে রেখে একগুচ্ছ নিরাপত্তা নির্দেশিকা বা SOP জারি করা হয়েছে। কীভাবে পুজোর আয়োজন করতে হবে, মণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও বেরোনোর ব্যবস্থা কেমন হবে, ভিড় নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে অগ্নিনির্বাপণ—প্রতিটি বিষয়েই নির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ২৯ অক্টোবর নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক দফতরের মন্ত্রীর নেতৃত্বে নগরায়ন ভবনে আয়োজিত বৈঠকে এই SOP-সংক্রান্ত নির্দেশিকা নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানেই জানানো হয়েছে, আসন্ন পুজোয় থিম নির্ধারণের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে উদ্যোক্তাদের। এমন কোনও থিম করা যাবে না, যেখানে মণ্ডপের ভিতরে আলোর পরিমাণ কম থাকে। থিমকে ফুটিয়ে তোলার কৌশলে যেন মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি পুজোমণ্ডপে নিরাপদে প্রবেশ ও বেরোনোর পথ, প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখতে হবে। বড় পুজোগুলিতে অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দমকলের ক্ষেত্রে এমন ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে, যাতে সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে পরিষেবা পৌঁছতে পারে।
দর্শনার্থীদের ভিড় সামলাতে পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একদল দর্শনার্থী মণ্ডপ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরেই পরবর্তী দলকে প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে। প্রবেশ ও প্রস্থানের পথের পাশাপাশি যাতায়াতের গোটা রাস্তায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দর্শনার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী পুলিশ মোতায়েন, পানীয় জলের ব্যবস্থা এবং মণ্ডপে যাতায়াতের পথে কোনও স্টল বসিয়ে যাতে বাধা তৈরি না হয়, সে দিকেও নজর দিতে বলা হয়েছে। মণ্ডপের আশপাশে বাজি ফাটানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আরও খবর
শুধু নিরাপত্তা নয়, পরিবেশ রক্ষাতেও কড়া নির্দেশ রয়েছে SOP-তে। বিশেষ করে কালীপুজোর সময় বেআইনি বাজির ব্যবহার বন্ধ করে শুধুমাত্র গ্রিন ক্র্যাকার ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাইকে নির্দিষ্ট শব্দসীমা বজায় রাখতে সাউন্ড লিমিটার ব্যবহার এবং নির্ধারিত সময় মেনে মাইক বাজানো নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ যৌথভাবে এই নিয়ম কার্যকর করবে।
অন্যদিকে, বিসর্জন ও ছটপুজোর ঘাটগুলিতেও বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত আলো, CCTV, বায়ো-টয়লেট, প্রাথমিক চিকিৎসা, পরিচ্ছন্নতা এবং পৃথক বর্জ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা রাখতে হবে। নদীতে দুর্ঘটনা এড়াতে ব্যারিকেড, মহিলাদের পোশাক পরিবর্তনের ঘর, গাড়ি পার্কিং এবং সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম চালু রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।


