Bengal Liberty: কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দর (এসএমপি) দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দরে ৪০.৫২৭ মিলিয়ন মেট্রিক টন (এমএমটি) পণ্য (কার্গো) পরিচালনা করেছে। বিগত অর্থবছরে একই সময়ে যা পরিমাণ ছিল ৩৮.৫৬২ মিলিয়ন মেট্রিক টন, যা ৫.১০ শতাংশ সামগ্রিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দর কলকাতার চেয়ারপারসন রথেন্দ্র রমণ জানিয়েছেন, বন্দরের উভয় ডক সিস্টেমই এই প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক অবদান রেখেছে। হলদিয়া ডক কমপ্লেক্স (এইচডিসি) ২৯.৭৫২ মিলিয়ন মেট্রিক টন পণ্য সরবরাহ করেছে।
যা আগের বছরের একই সময়ের ২৮.৫৬২ মিলিয়ন মেট্রিক টনের তুলনায় ৫.২৮ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, কলকাতা ডক সিস্টেম (কেডিএস) ১০.৭৭৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন পণ্য সরবরাহ করেছে, যা আগের বছরের ১০.৩০৩ মিলিয়ন মেট্রিক টনের তুলনায় ৪.৫৮ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে। চেয়ারপার্সন আরও বলেন, ‘এটি বন্দরের উন্নত কার্যক্রম, উন্নত অবকাঠামো এবং গ্রাহকদের উন্নত পরিষেবা প্রদানের প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন। আগামী বছরগুলোতে আরও বড় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।’ এসএমপি, কলকাতা কন্টেইনার পরিবহনের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে এখানে ৫,৮৭,৩৯৯ টিইইউ কন্টেইনার হ্যান্ডেল করা হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের ৫,৪৩,৯৮২ টিইইউ-এর তুলনায় ৭.৯৮ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে কেডিএস-এ ৪,৫৪,৩১০ টিইইউ কন্টেইনার হ্যান্ডেল করা হয়েছে, যা ৭.৫১ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। অন্যদিকে, এইচডিসি-তে ১,৩৩,০৮৯ টিইইউ কন্টেইনার হ্যান্ডেল করা হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯.৬৪ শতাংশ বেশি বৃদ্ধি। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে কেডিএস-এ কন্টেইনার পরিবহনে ১৫.৮৩ শতাংশ বৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এই মাসে সেখানে ৬৪,২২৪ টিইইউ কন্টেইনার হ্যান্ডেল করা হয়েছে, যেখানে ২০২৫ সালের অক্টোবরে এই সংখ্যা ছিল ৫৫,৪৪৯ টিইইউ।
আরও খবর
এই কর্মক্ষমতা এসএমপি, কলকাতার মাধ্যমে কন্টেইনারাইজড কার্গো পরিবহনের ধারাবাহিক গতিকেই তুলে ধরে। চেয়ারপার্সন রমণ জানান, ডকে জাহাজ পরিচালনার জন্য বেসরকারি বার্থ অপারেটর এবং বন্দর কর্তৃপক্ষ—উভয় পক্ষই অতিরিক্ত ক্রেন যুক্ত করেছে। এছাড়া, ডায়মন্ড হারবার অ্যাঙ্করেজে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের জন্য ভাসমান ক্রেন মোতায়েন করা হয়েছে। এর ফলে আরও বেশি কার্গো আনা সম্ভব হয়েছে এবং জাহাজে অব্যবহৃত বা খালি জায়গার পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে। এছাড়াও উল্লেখ্য, এই প্রথম হলদিয়া বন্দরে ‘কুইক লাইম’ বা পোড়াচুন এসেছে। ১ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে ইউএই-র দিব্বা থেকে ‘এমভি এশিয়ান অনার’ নামক জাহাজটি ৮,১৩৩ টন কুইক লাইম ও হাইড্রেটেড লাইম (বস্তাবন্দি অবস্থায়) নিয়ে বন্দরে পৌঁছায়। ইস্পাত শিল্পের জন্য কুইক লাইম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ইস্পাত পরিষ্কার করতে, অশুদ্ধি দূর করতে এবং স্ল্যাগ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এই নতুন কার্গোটি বন্দর কর্তৃপক্ষকে আরও বেশি শিল্প-কার্গো আকৃষ্ট করতে সাহায্য করবে এবং পূর্ব ভারতের শিল্পক্ষেত্রকে সহায়তা জোগাবে।


