Bengal Liberty: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী ভোটে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। মঙ্গলবারের এই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়েছে। কিন্তু ডেমোক্র্যাটরা চাইলেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের এইচ-১বি ভিসা নীতিগুলো রাতারাতি বা সম্পূর্ণভাবে পাল্টে দিতে পারবে না।
২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষের (প্রতিনিধি সভা ও সেনেট) নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে। তবে নীতি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে মার্কিন শাসনব্যবস্থার কিছু সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা এখন ট্রাম্পের নীতিগুলো আরও কঠোরভাবে পর্যালোচনা করতে পারবেন। এমনকী, তাদের বিরোধিতার মুখে পড়া আইন প্রণয়নের উদ্যোগ আটকেও দিতে পারবেন। তবে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াও প্রেসিডেন্টের হাতে অনেক কিছু করার ক্ষমতা রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া এইচ-১বি নীতিগুলো (যেমন—১,০০,০০০ ডলার নবায়ন ফি বা নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা) মূলত প্রেসিডেন্টের ‘এক্সিকিউটিভ অর্ডার’ বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে জারি করা হয়েছে। তবে ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস আইন পাস করে এই নীতিগুলো বাতিল করার চেষ্টা করতে পারে ঠিকই, কিন্তু ‘ভেটো’ দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছেই। ট্রাম্পের এই ভেটো এড়িয়ে আইন পাস করতে গেলে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন। কিন্তু আফসোসের বিষয় হল, বর্তমানে ডেমোক্র্যাটদের কাছে এটি নেই।
আরও খবর
ডেমোক্র্যাটরা সরাসরি আইন পরিবর্তন করতে না পারলেও ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি করতে পারবে, তা স্পষ্ট।
ডেমোক্র্যাটরা অভিবাসন এবং ভিসা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটিগুলোর (যেমন- হাউস জুডিশিয়ারি কমিটি) নেতৃত্ব পাবে। তারা ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ডেকে শুনানি (Hearings) করতে পারবে, ভিসা নীতি সংক্রান্ত গোপন নথি তলব করতে পারবে। একই সঙ্গে কোনও নীতি অযৌক্তিক প্রমাণিত হলে তা নিয়ে তদন্ত শুরু করতে পারবে ডেমোক্র্যাটরা।
ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির বাজেট বা অর্থায়ন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কঠোর ভিসা নীতিগুলোর বাস্তবায়নের গতি ধীর করে দিতে পারে। বর্তমানে আইনি লড়াইয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিপক্ষে ও পিটিশনারদের পক্ষে অবস্থান নিতে পারে ডেমোক্র্যাটরা। ক্ষমতায় এলেও তারা মার্কিন আইটি ও স্থানীয় কর্মীদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে ঢালাওভাবে সব ভিসা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে না, বরং নীতিগুলোর কিছুটা সহজীকরণ বা আইনি সংস্কারের চেষ্টা করতে পারে।
মূল কথা হল, ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের ভিসা নীতিতে কঠোর নজরদারি চালাতে পারবে এবং নতুন কোনো কড়া আইন পাসে বাধা দিতে পারবে, তবে ট্রাম্পের বিদ্যমান নির্বাহী আদেশগুলো সরাসরি বাতিল করার ক্ষমতা তাদের হাতে নেই। তাই একথা জোড় দিয়ে বলা যেতে পারে যে, এইচ-১বি ভিসার ক্ষেত্রে এখনই বড় কোনো তাৎক্ষণিক স্বস্তি পাওয়ার সম্ভাবনা কম।


