শারদ্বত মুখোপাধ্যায়
শারদ্বত মুখোপাধ্যায়

নো ইওর ডক্টর কর্মসূচির সূচনা করলেন শারদ্বত মুখোপাধ্যায়

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজার চিকিৎসকের নাম নথিভুক্ত রয়েছে। তাঁদের প্রত্যেকের রেজিস্ট্রেশন নম্বর, মেডিকেল ডিগ্রি এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া শংসাপত্র ফের মিলিয়ে দেখা হবে। এই যাচাইয়ের জন্য দু’টি পদ্ধতি চালু করার পরিকল্পনা হয়েছে। প্রথমটি ম্যানুয়াল এবং দ্বিতীয়টি ভিডিও। যাঁরা সরাসরি মেডিকেল কাউন্সিলে উপস্থিত হতে পারবেন, তাঁরা প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র এবং অন্যান্য নথি জমা দিয়ে যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। অন্যদিকে, বয়স্ক চিকিৎসক কিংবা দূরবর্তী এলাকায় কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে নথি ও পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে এই কাজের জন্য বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতাও নেওয়া হতে পারে।

এই প্রক্রিয়া কার্যকর করতে প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো উন্নয়নের উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য দফতরের পুরনো সফটওয়্যার পরিবর্তনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্বাস্থ্য ভবনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে নতুন সফটওয়্যার চালু হলেও পুরনো তথ্য যাতে হারিয়ে না যায়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। দ্রুত এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তবে উৎসবের মরশুমের কারণে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া শেষ করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

শুধু পশ্চিমবঙ্গে নথিভুক্ত চিকিৎসকদের ক্ষেত্রেই নয়, ভিন্রাজ্য থেকে এসে এই রাজ্যে রেজিস্ট্রেশন করানো বা মাইগ্রেশন করা চিকিৎসকদের নথিও যাচাই করা হবে। বিশেষ করে ওড়িশা, বিহার, অসম ও ঝাড়খণ্ডের মতো প্রতিবেশী রাজ্য থেকে বহু চিকিৎসক পশ্চিমবঙ্গে এসে চিকিৎসা পরিষেবায় যুক্ত হয়েছেন। তাঁদের মূল রেজিস্ট্রেশন কোন রাজ্যে এবং সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল কাউন্সিল থেকেই বা কী ধরনের শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে ওই রাজ্যগুলিতে আধিকারিক পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতিমধ্যেই চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশনের উৎস অনুযায়ী আলাদা তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

যাচাই প্রক্রিয়ায় মৃত চিকিৎসকদের নাম রেজিস্ট্রেশন তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, যাঁরা বিদেশে চলে গিয়েছেন, অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন কিংবা দীর্ঘদিন চিকিৎসা পেশার সঙ্গে যুক্ত নন, তাঁদের বর্তমান অবস্থান ও নথির তথ্যও যাচাই করা হবে। বিদেশে থাকা চিকিৎসকদের জন্য ভিডিওর সুযোগ থাকবে। তবে তাঁরা চাইলে পশ্চিমবঙ্গের রেজিস্ট্রেশনে নিজেদের নাম রাখতে পারবেন বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী অবশ্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই উদ্যোগের অর্থ এই নয় যে বর্তমানে রাজ্যের চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশনের বৈধতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর বক্তব্য, এই মুহূর্তে নথিভুক্ত সমস্ত চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন বৈধ রয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শুধুমাত্র প্রত্যেকের পরিচয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট নথি আরও একবার মিলিয়ে নেওয়া হবে। প্রথমে রেজিস্ট্রেশন তালিকার ‘স্যানিটাইজেশন’ করা হবে। তারপর তৈরি হবে একটি নির্ভুল তালিকা, যেখানে মৃত বা ভুয়ো চিকিৎসকদের নাম থাকবে না।
অন্যদিকে, রাজ্য মেডিকেলে কাউন্সিলের আসন্ন নির্বাচন বা ভোটের সঙ্গে এই যাচাই প্রক্রিয়ার কোনও সম্পর্ক নেই বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী। চিকিৎসকদের তালিকাকে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সঙ্গে তুলনা করারও বিরোধিতা করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে তালিকায় মৃত চিকিৎসকদের নাম রয়ে গিয়েছে। অনেকে বিদেশে চলে গিয়েছেন, আবার কেউ কেউ চিকিৎসা পেশা থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন। তাই নিয়ম মেনে তালিকা সংশোধন করা প্রয়োজন।

এই যাচাই প্রক্রিয়ার আইনি বৈধতা নিয়ে কোনও বাধা রয়েছে কি না, তা জানতে জাতীয় মেডিকেল কমিশনের কাছেও ইমেল পাঠিয়েছে রাজ্য। কমিশনের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। তবে সেই উত্তর না আসা পর্যন্ত বর্তমানে চালু রেজিস্ট্রেশনগুলির বৈধতা বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সব মিলিয়ে, ভুয়ো চিকিৎসকদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি রাজ্যের চিকিৎসা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

Bengal Liberty