Bengal Liberty: মা কালীর শক্তি চোখে দেখা যায় না, অনুভব করতে হয়। আর সেই শক্তিরই ‘প্রতিফলন’ দেখেছেন বলে দাবি করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার তমলুকে কালীপুজোর উদ্বোধন করতে এসে নাম না করে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ২০২৫ সালে যার নির্দেশে কাকদ্বীপের সূর্যনগরে মা কালীর মূর্তিকে পিজন ভ্যানে তোলা হয়েছিল, এ বার মহালয়ার দিন তাকেই দিল্লিতে পিজন ভ্যানে উঠতে হয়েছে। ঘটনাকে ‘মায়ের আসল রূপ’ বলেই কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
শনিবার তমলুক শহরের হাসপাতাল মোড়ের উত্তরায়ণ ক্লাবের কালীপুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘‘মা কালীর শক্তি চোখে দেখতে পাবেন না। কাজেই বুঝতে পারবেন। ২০২৫ সালে যার নির্দেশে কাকদ্বীপের সূর্যনগরে পিজন ভ্যানে তোলা হয়েছিল, এ বার মহালয়ার দিন দিল্লিতে পিজন ভ্যানে উঠতে হয়েছিল। আপনিও জানতেন না, আমিও জানতাম না। এটাই মায়ের আসল রূপ।’’
উল্লেখ্য, তমলুকের সঙ্গে কালী আরাধনার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। সতীর ৫১ পীঠের অন্যতম পীঠ হিসেবে পরিচিত বর্গভীমা মন্দিরকে ঘিরে এই শহরের ধর্মীয় আবেগও যথেষ্ট গভীর। কালীপুজোকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই উৎসবে মেতে ওঠেন তমলুকবাসী। শহরজুড়ে একাধিক থিমের পুজোর আয়োজন হয়। তার মধ্যে অন্যতম হাসপাতাল মোড়ের উত্তরায়ণ ক্লাবের কালীপুজো।
আরও খবর
এ বার ৫৬ বছরে পা দিয়েছে উত্তরায়ণ ক্লাবের কালীপুজো। ক্লাবের সভাপতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার রাতে তাঁর হাতেই পুজোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। এ বারের পুজোর থিম ‘গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে’। থিমের মাধ্যমে মহাকাশ ও গ্রহজগতের নানা ভাবনাকে তুলে ধরা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা তমলুকের বিধায়ক হরেকৃষ্ণ বেরা, জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার, পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা-সহ প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিক এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে রাজ্যবাসীর মঙ্গল কামনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে রাজ্যে আরও বেশি কর্মসংস্থান তৈরি হোক, যুব সমাজের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হোক—এই প্রার্থনাও করেন তিনি। ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই রাজ্যের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তাঁর বক্তব্য, মানুষের জীবনে শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কাজের সুযোগ তৈরি হওয়াই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
তবে এ দিনের অনুষ্ঠানে ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্ট ছিল। কাকদ্বীপের পুরনো ঘটনাকে সামনে এনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করার পাশাপাশি ‘মায়ের শক্তি’কে রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে জুড়ে দেন শুভেন্দু। তাঁর মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।


