Dilip Ghosh on Durga Angan
Bengal Liberty Desk, ২৯ ডিসেম্বর, কলকাতা: দুর্গাঙ্গন প্রকল্পকে (Durga Angan project) কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা। নিউটাউনে (Newtown) ‘দুর্গাঙ্গন’ প্রকল্পের শিলান্যাসকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক বহাল। সোমবার বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) সরাসরি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে অভিযোগ করেন, নির্বাচনি স্বার্থে ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করছেন তিনি (Dilip Ghosh on Durga Angan)।
সোমবারই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওই প্রকল্পের শিলান্যাস করার কথা। তবে নির্ধারিত স্থান বদলানো হয়েছে বলে দাবি করে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এবার একই কথা শোনা গেল দিলীপ ঘোষের বক্তব্যেও।

কী বললেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ? (Dilip Ghosh on Durga Angan)
দিলীপ ঘোষের দাবি, দুর্গাঙ্গন প্রকল্পটি জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত একাধিক অমীমাংসিত সমস্যার কারণেই বিতর্কে জড়িয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “হিন্দু ভোট টানার জন্য এখানে দুর্গা মন্দির তৈরি করা হচ্ছে, আবার মুসলিম ভোট পেতে একজন মন্ত্রীকে বাবরি মসজিদ তৈরির জন্য পাঠানো হয়েছে। সবই হচ্ছে নির্বাচনের আগে! কিন্তু দুর্গাঙ্গন প্রকল্প নিয়ে বহু বিতর্ক রয়েছে। যাঁদের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে, তাঁদের অনেকেই এখনও ক্ষতিপূরণ পাননি এবং মামলা চলছে। আগে এই সমস্যাগুলির নিষ্পত্তি করা উচিত, তার পর কাজ শুরু করা দরকার।”
দিলীপ ঘোষের মন্তব্যের আগে বিরোধী দলনেতা দাবি করেন,দুর্গাঙ্গন ও মহাকাল মন্দিরের মতো প্রকল্প ঘোষণার মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী নিজেকে হিন্দু প্রমাণের চেষ্টা করলেও, সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় সরকার পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। তাঁর দাবি, দ্রুত স্থান বদলে বর্তমানে নিউটাউনের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় দুর্গাঙ্গনের জন্য নতুন জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে শিল্পের জন্য চিহ্নিত ছিল। তিনি লেখেন,”এবার ছুঁচো গেলার অবস্থা হয় মাননীয়ার ! নিজেকে হিন্দু প্রমাণ করতে গিয়ে দুর্গাঙ্গন, মহাকাল মন্দির ইত্যাদি বানানোর ঘোষণা করা হয়ে গেছে, আবার মুসলিম ভোট ব্যাংক কে চটালে সাড়ে সর্বনাশ!”
দুর্গাঙ্গন প্রকল্প (Durga Angan Project)
২১ জুলাই শহীদ দিবসের সমাবেশ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিঘার জগন্নাথ ধামের পর রাজ্যে ‘দুর্গাঙ্গন’ নির্মাণের ঘোষণা করেন। সেই ঘোষণার পরই নিউটাউনে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু হয়। এই প্রকল্পের জন্য ধার্য করা হয়েছে প্রায় ২৬১ কোটি ৯৯ লক্ষ টাকা। পরিকল্পনামাফিক কাজ এগোলে ২০২৭ সালের মধ্যেই নির্মাণ সম্পূর্ণ হওয়ার কথা। তবে বিধানসভা ভোটের আগে দুর্গাঙ্গনকে ঘিরে রাজনীতির পারদ চড়ছে। শিলান্যাস ও প্রকল্পের উদ্দেশ্য নিয়ে বিরোধীরা প্রশ্ন তুললেও শাসকদলের দাবি, এটি রাজ্যের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরার উদ্যোগ।
তবে, দুর্গাঙ্গন প্রকল্পকে ঘিরে শাসক ও বিরোধীর এই তরজাতে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ক্রমেই চড়ছে উত্তাপ। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই এই প্রকল্পকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হচ্ছে। পরবর্তীতে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত স্পষ্ট।
