Rajouri sector attack 2000
Rajouri sector attack 2000

রাজৌরির সেই রক্তস্নাত রাত(Rajouri sector attack 2000): শহীদ জওয়ান তলেকর ও এক নৃশংসতার ইতিহাস

Bengal Liberty, সিদ্ধার্থ দে:

ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের দীর্ঘ রক্তাক্ত ইতিহাসে এমন কিছু ঘটনা রয়েছে, যা শুনলে আজও শিহরিত হতে হয়। ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাজৌরি সেক্টরে ঘটে যাওয়া সেই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড তেমনই এক কালো অধ্যায়(Rajouri sector attack 2000) । ভারতীয় সেনাবাহিনীর অকুতোভয় জওয়ান ভাউসাহেব মারুতি তলেকরের আত্মত্যাগ এবং জঙ্গি নেতা ইলিয়াস কাশ্মীরির নৃশংসতা আজও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর স্মৃতিতে দগদগে ক্ষতের মতো রয়ে গেছে।

 

Rajouri sector attack 2000
Rajouri sector attack 2000

পটভূমি: ২০০০ সালের সীমান্ত পরিস্থিতি Rajouri sector attack 2000

১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের রেশ তখনো কাটেনি। নিয়ন্ত্রণ রেখা (LoC) বরাবর উত্তেজনা তখন তুঙ্গে। পাকিস্তানি মদতপুষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো ভারতের অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল। ঠিক এই সময়েই রাজৌরি সেক্টরে মোতায়েন ছিল ভারতীয় সেনাবাহিনীর ‘১৭ মারাঠা লাইট ইনফ্যান্ট্রি’। দুর্গম পাহাড় আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা এই অঞ্চলে অতন্দ্র প্রহরীর মতো লড়াই করছিলেন ভারতীয় জওয়ানরা।

 

Rajouri sector attack 2000
Rajouri sector attack 2000

২৭শে ফেব্রুয়ারির সেই অভিশপ্ত রাত Rajouri sector attack 2000

২০০০ সালের ২৭শে ফেব্রুয়ারি। চারদিকে হাড়কাঁপানো শীত আর নিস্তব্ধতা। রাজৌরি জেলার মানজাকোট এলাকায় একটি ভারতীয় পোস্ট লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালায় জঙ্গিরা। এই হামলার নেতৃত্বে ছিল কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন ‘হরকত-উল-জিহাদ আল-ইসলামি’ (HuJI)-র কম্যান্ডার ইলিয়াস কাশ্মীরি। তার সাথে ছিল একদল প্রশিক্ষিত ঘাতক, যারা ‘স্পেশাল গ্রুপ’ হিসেবে পরিচিত ছিল।

 

Rajouri sector attack 2000
Rajouri sector attack 2000

ভাউসাহেব মারুতি তলেকর: এক বীরের বীরত্ব

মারাঠা লাইট ইনফ্যান্ট্রির জওয়ান ভাউসাহেব মারুতি তলেকর তখন ডিউটিতে ছিলেন। হঠাতই শুরু হয় বৃষ্টির মতো গুলি আর গ্রেনেড হামলা। অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে শত্রুর মোকাবিলা করেছিলেন তলেকর। কিন্তু সংখ্যায় অনেক বেশি এবং ভৌগোলিক সুবিধার সুযোগ নিয়ে জঙ্গিরা পোস্টটি ঘিরে ফেলে। লড়াই করতে করতেই বীরত্বের সাথে প্রাণ হারান ২৪ বছর বয়সী এই জওয়ান।

 

Rajouri sector attack 2000
Rajouri sector attack 2000

ইলিয়াস কাশ্মীরির অমানবিকতা

জঙ্গি নেতা ইলিয়াস কাশ্মীরি কেবল আক্রমণ করেই ক্ষান্ত হয়নি। সে ছিল মধ্যযুগীয় বর্বরতায় বিশ্বাসী। হত্যার পর সে শহীদ জওয়ান ভাউসাহেব মারুতি তলেকরের দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে দেয়। শুধু তাই নয়, যুদ্ধের সমস্ত নিয়ম ও মানবতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সে সেই কাটা মাথাটি ব্যাগে ভরে নিয়ন্ত্রণ রেখা পার করে পাকিস্তানে নিয়ে যায়।

 

 

Rajouri sector attack 2000
Rajouri sector attack 2000

নৃশংসতার ট্রফি ও প্রচার

পরবর্তীতে জানা যায়, ইলিয়াস কাশ্মীরি সেই শহীদ জওয়ানের কাটা মাথাটি পাকিস্তানে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় প্রদর্শন করেছিল। এমনকি তৎকালীন পাকিস্তানের কিছু মহলে তাকে ‘বীর’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টাও করা হয়েছিল। তলেকরের মাথা হাতে নিয়ে তোলা কাশ্মীরির ছবি সেই সময় আন্তর্জাতিক মহলেও চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল, যা জঙ্গিবাদের কুৎসিত চেহারাটি সবার সামনে উন্মোচিত করে দেয়।

 

Rajouri sector attack 2000
Rajouri sector attack 2000

কে এই ইলিয়াস কাশ্মীরি?

ইলিয়াস কাশ্মীরি ছিল আল-কায়েদার অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং HuJI-এর ‘৩১৩ ব্রিগেড’-এর প্রধান। সে ছিল ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকার প্রথম সারিতে। পাকিস্তানের স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপ (SSG)-এর প্রাক্তন সদস্য হওয়ার কারণে গেরিলা যুদ্ধে সে ছিল পারদর্শী। তার নৃশংসতার কারণে তাকে ‘দ্য বুচার’ (কসাই) নামেও ডাকা হতো।

 

Iliyas kashmiri
Iliyas kashmiri

মারাঠা লাইট ইনফ্যান্ট্রির শোক ও শপথ

এই ঘটনার পর সারা দেশে শোকের ছায়া নেমে আসে। মারাঠা লাইট ইনফ্যান্ট্রির কাছে এটি ছিল এক ব্যক্তিগত আঘাত। তাদের বীর যোদ্ধার সাথে হওয়া এই অমানবিক আচরণের বদলা নিতে ভারতীয় সেনাবাহিনী সীমান্তে কড়া অবস্থান নেয়। তলেকরের পরিবার এবং মহারাষ্ট্রের তার গ্রাম এই বীরের আত্মত্যাগকে আজও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে।

 

Rajouri sector attack 2000
Rajouri sector attack 2000

ভারতের প্রতিক্রিয়া ও বিচার

ভারত সরকার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের প্রমাণ হিসেবে এই ঘটনাকে তুলে ধরে। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইলিয়াস কাশ্মীরিকে ধরার জন্য জাল বিছিয়েছিল। অবশেষে ২০১১ সালে একটি মার্কিন ড্রোন হামলায় পাকিস্তানে মৃত্যু হয় এই কুখ্যাত জঙ্গির। যদিও তার মৃত্যুতে তলেকরের জীবনের ক্ষতি পূরণ হয়নি, তবে এক নৃশংস ঘাতকের পতন হয়েছিল।

স্মৃতিতে অমলিন শহীদ তলেকর

ভাউসাহেব মারুতি তলেকর কেবল একজন জওয়ান ছিলেন না, তিনি ছিলেন ভারতের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। রাজৌরির সেই পাহাড় আজও তার বীরত্বের সাক্ষ্য দেয়। তার আত্মত্যাগ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে আমাদের জওয়ানদের কী ধরণের অকল্পনীয় পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়।

আজকের দিনে দাঁড়িয়ে যখন আমরা জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করি, তখন তলেকরের মতো শহীদদের কথা ভুলে গেলে চলবে না। ইলিয়াস কাশ্মীরির মতো জঙ্গিরা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে, কিন্তু ভাউসাহেব মারুতি তলেকরের নাম ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইতিহাসে চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তাঁর এই রক্তক্ষয়ী বলিদান আমাদের দেশপ্রেমের এক পরম শিক্ষা।

আরও পড়ুন :

Afghanistan Pakistan tension: সীমান্তে যুদ্ধের আগুন! পাকিস্তান – আফগানিস্তানের সংঘাতে বাড়ছে মৃত্যু, উদ্বেগে গোটা বিশ্ব

Bengal liberty
Bengal liberty

Bengal Liberty is a platform dedicated to guerrilla, unfiltered, and independent journalism. Through YouTube, its official website, and various social media channels, Bengal Liberty seeks to present citizen journalism to the public with integrity and transparency. Editor: Bittu Roy Chowdhury