Central vs State
Central vs State

Central vs State: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আক্রমণে চাপে তৃণমূল? পাল্টা প্রশ্নে ধোঁয়াশা বাড়াচ্ছে জোড়াফুল শিবির

Bengal Liberty, ২৪ মার্চ, কলকাতা:

ভোটের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে বাংলা। রাজনৈতিক তরজাও(Central vs State) এখন তুঙ্গে। ভোটের আবহে প্রতি মুহূর্তে একে অপরকে দুষতে ব্যস্ত শাসক দল ও বিরোধী দল। দুই দলের বাকযুদ্ধ প্রমাণ করছে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের দিকে এগোচ্ছে। কেন্দ্র বনাম রাজ্য, এই সংঘাতই এখন বাংলার ভোটযুদ্ধের মূল মঞ্চ। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিরোধী দলের রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কারও বক্তব্যেরই পাল্টা যুক্তি দিতে ছাড়ছে না রাজ্যের শাসক দল। ফলস্বরূপ রাজ্য ও কেন্দ্রের সংঘাত ক্রমশ জমে উঠেছে।

Central vs State
Central vs State

 

কেন্দ্র বনাম রাজ্য (Central vs State)

বিধানসভা নির্বাচনের আবহে কেন্দ্র-রাজ্য তরজা তুঙ্গে। গতকাল, সোমবার একটি জাতীয় সংবাদমাধ্যমের সম্মেলনে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে ‘নির্মম’ বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে রাজ্য সরকার জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে বাধা সৃষ্টি করছে। ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সেই আক্রমণের পাল্টা জবাব দিল তৃণমূল কংগ্রেস।

Central vs State
Central vs State

কী বলেছিলেন নরেন্দ্র মোদি? (Central vs State)

প্রধানমন্ত্রীর তোপ-‘উন্নয়নে ব্রেক কষছে বাংলা’। টেলিভিশন সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, একসময় বাংলা সংস্কৃতি ও শিল্পের প্রাণকেন্দ্র ছিল। কিন্তু গত ১১ বছরে কেন্দ্রীয় সরকার উন্নয়নের জন্য বিপুল টাকা দিলেও রাজ্যের ‘নির্মম’ সরকার তাতে ব্রেক কষছে। মোদির কথায়, “আয়ুষ্মান ভারত, পিএম আবাস যোজনা বা চা শ্রমিকদের জন্য তৈরি প্রকল্পগুলি বাংলায় কার্যকর করতে দেওয়া হচ্ছে না। জনকল্যাণের চেয়ে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে এই সরকার।” এর পাশাপাশি ইউপিএ আমলের ‘অয়েল বন্ড’ ইস্যু তুলে ধরে কংগ্রেসকেও নিশানা করেন তিনি।

Central vs State
Central vs State

পাল্টা তৃণমূলের তিন প্রশ্ন (Central vs State)

প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে X- এ সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। জোড়াফুল শিবিরের দাবি, প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক মঞ্চ ছেড়ে এখন জাতীয় টেলিভিশনকেও বাংলাকে কালিমালিপ্ত করার কাজে ব্যবহার করছেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তৃণমূল প্রশ্ন তুলেছে, যেখানে রাজ্যের ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পের আওতায় ২.৪৫ কোটি পরিবারের ৮.৫১ কোটি মানুষ পরিষেবা পাচ্ছেন, সেখানে সীমাবদ্ধ শর্তসাপেক্ষ ‘আয়ুষ্মান ভারত’ কেন গ্রহণ করবে রাজ্য?

এছাড়া, ১২ লক্ষ পরিবারের মাথার ওপর ছাদ কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলে তৃণমূল জানায়, আবাস যোজনার ২৪,২৭৫ কোটি টাকা কেন্দ্র আটকে রেখেছে। চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তারা বলে, ২০২১ সালের হারের পর থেকে কেন্দ্র কেন শ্বেতপত্র প্রকাশ করছে না?
তৃণমূলের তৃতীয় প্রশ্ন, ২০২১ সালের বাজেটে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন চা শ্রমিকদের জন্য ১০০০ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন। তৃণমূলের প্রশ্ন, “সেই টাকার এক পয়সাও কি আজ পর্যন্ত রিলিজ করা হয়েছে?”

ক্ষততে মলম তৃণমূলের (Central vs State)

তৃণমূলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বাংলার সরকার ‘নির্মম’ নয়, বরং অত্যন্ত ‘মানবিক’। কেন্দ্রের ‘ডাবল ইঞ্জিন’ মডেলকে কটাক্ষ করে তারা বলে, বিজেপির ইঞ্জিন চলে ‘ঘৃণা ও বঞ্চনায়’, আর বাংলা চলে ‘উন্নয়ন ও মর্যাদায়’।
রাজ্য ও কেন্দ্রের এই কাদা ছোড়াছুড়িতে স্পষ্ট, বকেয়া পাওনা এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে এই সংঘাত আগামী দিনে আরও তীব্র হবে। প্রধানমন্ত্রীর আক্রমণ এবং তৃণমূলের এই পাল্টা পরিসংখ্যানের লড়াই শেষ পর্যন্ত ভোটের বাক্সে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার।

আরও পড়ুন :

Suvendu on Panihati Assembly: অভয়ার মা কে প্রার্থী করা নিয়ে চাপে বিজেপি, সিদ্ধান্তে দেরিতে বাড়ছে জল্পনা! কী বললেন শুভেন্দু?

 

 

Bengal liberty
Bengal liberty

Bengal Liberty is a platform dedicated to guerrilla, unfiltered, and independent journalism. Through YouTube, its official website, and various social media channels, Bengal Liberty seeks to present citizen journalism to the public with integrity and transparency. Editor: Bittu Roy Chowdhury