Bengal Liberty Desk, Kolkata:
মালদার মোথাবাড়ি কাণ্ডে গ্রেফতারি অব্যাহত। তদন্তে নেমে সোমবার আরও দু’জনকে গ্রেফতার করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা NIA (NIA arrest case)। ধৃতদের নাম শাহাদাত হোসেন ও আসিফ শেখ বলে জানা গেছে। তাঁরা কংগ্রেস কর্মী বলেও জানাচ্ছেন তদন্তকারীবা। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, মোথাবড়ি অশান্তির ঘটনায় তাদের প্রত্যক্ষ যোগ থাকার প্রমাণ মিলেছে।

হঠাৎ উত্তপ্ত মোথাবাড়ি NIA arrest case
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা যাচ্ছে, গত ১ এপ্রিল SIR প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়াকে কেন্দ্র করে মালদার কালিয়াচক-২ ব্লকের বিডিও অফিস চত্বর আচমকাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে ব্যস্ত ছিলেন ৩ মহিলা সহ মোট ৭ জন “Judicial Officer” ও প্রশাসনিক আধিকারিকেরা। অভিযোগ, সেই সময়ই একদল মানুষ হঠাৎ করে অফিসে ঢুকে পড়ে। শুরু হয় বিক্ষোভ। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
অভিযোগ, প্রাক্তন তৃণমূল নেতা ও বর্তমান ISF নেতা মোফাক্কেরুল ইসলামের নেতৃত্বে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিচারকদের প্রায় ১৭ ঘণ্টা ধরে বিডিও অফিসে আটক করে রাখা হয়। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই প্রশাসনিক মহলে উদ্বেগ বাড়ে। সরকারি কাজে বাধা, ভাঙচুর এবং হুমকির অভিযোগ ওঠে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আরও খবর
NIA-র জালে ২ কংগ্রেস নেতা
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্তভার যায় কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা NIA-র হাতে। তারপর থেকেই একের পর এক তল্লাশি ও গ্রেফতারি চলছে। ইতিমধ্যেই, রবিবার ISF নেতা আব্দুল গোলাম রাব্বানিকে গ্রেফতার করে NIA। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, এই বিক্ষোভ স্বতঃস্ফূর্ত ছিল, না কি পরিকল্পিতভাবে লোক জড়ো করা হয়েছিল। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, ঘটনার নেপথ্যে সংগঠিত ভূমিকার ইঙ্গিত মিলছে। কারা এই জমায়েতের পিছনে ছিল এবং কোনও রাজনৈতিক যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আজ, সোমবার সুপ্রিম কোর্টে মোথাবাড়ি হিংসা মামলার শুনানি রয়েছে। তার আগে NIA-র তৎপরতা বেশ ইঙ্গিতপূর্ণ। ঘটনায় কংগ্রেস নেতা সায়েম চৌধুরীকেও আটক করেছে বলে NIA সূত্রে খবর। এখনও পর্যন্ত এই মামলায় রাজ্য পুলিশ ও রাজ্য তদন্তকারী সংস্থা ৫০-র বেশি জনকে আটক করেছে বলে জানা গিয়েছে। নতুন করে এই দু’জনের গ্রেফতারির পর তদন্ত আরও এগোবে বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও গ্রেফতার হতে পারে।


