Gariahat Bridge
Gariahat Bridge

উৎসবের রঙে রঙিন গড়িয়াহাট ব্রিজ! আলপনায় সাজছে কলকাতা

Bengal Liberty : শরতের আকাশে পুজোর গন্ধ। গলি থেকে রাজপথ—বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোকে স্বাগত জানাতে সেজে উঠছে তিলোত্তমা কলকাতা। রংবেরঙের আলো ও নানা সাজসজ্জার পাশাপাশি এবার শহরের রাস্তাতেও ফুটে উঠছে উৎসবের ছোঁয়া। কোথাও রঙিন রাস্তা, কোথাও আবার বাংলার চিরাচরিত আলপনায় সেজে উঠছে শহরের ব্যস্ততম পথ। সেই তালিকায় এবার নতুন সংযোজন গড়িয়াহাট ব্রিজ। দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করেন হাজার হাজার মানুষ। পুজোর আগে সেই ব্যস্ত সেতুর রাস্তাকেই নতুন রঙে সাজিয়ে তোলা হয়েছে।

হলুদ, সবুজ ও লালের বিভিন্ন শেডে রাঙিয়ে তোলা হয়েছে সেতুর রাস্তা। রঙিন এই সাজে যেন শহরের বুকে ছড়িয়ে পড়ছে উৎসবের আগমনী বার্তা। সেতুর সাজসজ্জার কাজ খতিয়ে দেখতে এদিন সেখানে উপস্থিত হন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। গড়িয়াহাট ব্রিজের এই নতুন রূপের সঙ্গে মানুষের বিশ্বাস, ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বের বার্তাও জুড়ে দেন তিনি। মন্ত্রীর কথায়, “ব্রিজে ভ্রাতৃত্বের রাস্তা, ভালোবাসার রাস্তা, বিশ্বাসের রাস্তা।” মানুষের আস্থা ও জনসমর্থনের প্রতীক হিসেবেই এই উদ্যোগকে তুলে ধরেন তিনি।

বাঙালির ঐতিহ্যে আলপনার ছোঁয়া

বাঙালির ঘরোয়া আচার-অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে বিভিন্ন উৎসব—আলপনার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। চালের গুঁড়ো দিয়ে আঁকা সেই চেনা নকশা কখনও বাড়ির উঠোনে, কখনও পুজোমণ্ডপে, আবার কখনও উৎসবের সাজে রাঙিয়ে তোলে চারপাশ। এবার সেই ঐতিহ্যই যেন ঘরের চৌকাঠ পেরিয়ে উঠে আসছে কলকাতার রাজপথে।

কিছুদিন আগেই পার্ক সার্কাসের মোড়ে রাস্তা জুড়ে আঁকা হয়েছে বিশাল আলপনা। সেই কর্মসূচিতেও অংশগ্রহণ করেছিলেন অগ্নিমিত্রা পাল। এদিন তিনি জানান, গড়িয়াহাটের সংযোগস্থলের চৌমাথাতেও বড় আকারে আলপনা আঁকা হয়েছে। সময় মিললে পার্ক স্ট্রিটের মোড়েও আলপনা আঁকার পরিকল্পনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে, দুর্গাপুজোর আগে কলকাতার রাস্তা সাজানোর এই উদ্যোগে আধুনিক শহুরে পরিসরের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে বাংলার চিরাচরিত শিল্প ও সংস্কৃতি। আলো, রং আর আলপনার ছোঁয়ায় ব্যস্ত শহরও যেন ধীরে ধীরে মেতে উঠছে দুর্গাপুজোর আবহে।

Pushpak Bhattacharya
পুষ্পক ভট্টাচার্য

পুষ্পক ভট্টাচার্য একজন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করার পর ২০২৬-এ Bengal Liberty-তে সাংবাদিক হিসেবে তাঁর পেশাগত যাত্রা শুরু হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদ এবং ক্রীড়া সাংবাদিকতার প্রতি বিশেষ আগ্রহ। দেশ-বিদেশের সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং খেলাধুলার নানা বিষযয়ের প্রতি বিশেষ ঝোঁক। ব্যস্ততার বাইরে বই ও সিনেমা সঙ্গী।