Bengal Liberty : ডানকুনিতে অ্যাপ ক্যাব চালক খুনের তদন্তে নেমেই কলকাতার এন্টালিতে আর এক চালক হত্যার রহস্যের কিনারা করল চন্দননগর কমিশনারেটের পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, গাড়ি চুরি করে চোরাবাজারে বিক্রি করাই ছিল অভিযুক্তদের মূল উদ্দেশ্য। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে পর পর দু’জন অ্যাপ ক্যাব চালককে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগ উঠেছে ধৃতদের বিরুদ্ধে। দুই ঘটনার অপরাধের ধরনে মিল খুঁজে পেয়ে তদন্তে গতি আনেন গোয়েন্দারা। শেষ পর্যন্ত এই ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের আদালতে হাজির করানো হলে বিচারক তাঁদের পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। এই চক্রে আরও কেউ জড়িত রয়েছেন কি-না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
ডানকুনিতে উদ্ধার চালকের দেহ
গত ৫ অক্টোবর সকালে ডানকুনি থানা এলাকার দিল্লি রোডের ধারে ভাদুয়া মোড়ের কাছে এক ব্যক্তির সংজ্ঞাহীন দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁকে শ্রীরামপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। মৃতের পা নাইলনের দড়ি দিয়ে বাঁধা ছিল। ময়নাতদন্তে জানা যায়, শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে তাঁকে। পরে মৃতের পরিচয় জানা যায়। তিনি উত্তর দমদমের বাঁকড়ার বাসিন্দা, ৫৮ বছর বয়সি রামজেশ কড়ি। পেশায় অ্যাপ ক্যাব চালক ছিলেন তিনি।

চোরাবাজারে গাড়ি বিক্রির পরিকল্পনা ব্যর্থ হতেই দ্বিতীয় চালককে নিশানা
পুলিশ সূত্রে খবর, জেরায় ধৃতেরা জানিয়েছেন, রামজেশের গাড়িটি চোরাবাজারে বিক্রি করাই ছিল তাঁদের উদ্দেশ্য। সেই মতো গাড়িটি নিয়ে বেনিয়াপুকুরে পৌঁছন তাঁরা। কিন্তু নথিপত্র ছাড়া গাড়ি কিনতে কেউ রাজি হননি। তার উপর গাড়িতে পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় শেষ পর্যন্ত সেটি রেখেই পালিয়ে যান অভিযুক্তেরা। পুলিশের দাবি, প্রথম পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর তাঁরা দ্বিতীয় অ্যাপ ক্যাব চালককে নিশানা করেন। অভিযোগ, এ বার তাঁদের লক্ষ্য ছিলেন এন্টালি থানা এলাকার চালক ভগবান প্রসাদ গুপ্ত।
আরও খবর
গত বুধবার সকালে কলকাতার এন্টালি এলাকার ডিসি দে রোডে একটি বন্ধ গাড়ির ভিতর থেকে ভগবান প্রসাদের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তাঁর পা-ও বাঁধা ছিল। ময়নাতদন্তে জানা যায়, তাঁকেও শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। দুই ঘটনার মধ্যে অপরাধের ধরন এবং চালকদের পা বেঁধে রাখার মিল তদন্তকারীদের সন্দেহ বাড়িয়ে দেয়।
আরও কারা জড়িত খতিয়ে দেখছে পুলিশ
ডানকুনির ঘটনার তদন্তে নেমে সিসিটিভি ফুটেজ-সহ বিভিন্ন সূত্র খতিয়ে দেখেন চন্দননগর কমিশনারেটের গোয়েন্দারা। গোয়েন্দাপ্রধান রূপান্তর সেনগুপ্তের নেতৃত্বে তদন্ত চালিয়ে তিন জনকে আটক করা হয়। ধৃতেরা হলেন মধ্যমগ্রামের বাসিন্দা মহম্মদ মনিরুল গাজি ও শেখ শাহদাত এবং নিমতার বাসিন্দা মহম্মদ আরিয়ান মোল্লা। ডানকুনির ঘটনায় ধৃতদের জেরা করার সময়ই এন্টালির খুনের সঙ্গে তাঁদের যোগসূত্র রয়েছে বলে সন্দেহ করেন গোয়েন্দারা। পুলিশ সূত্রের দাবি, শুক্রবার রাতে জেরার মুখে অভিযুক্তেরা এন্টালিতে ভগবান প্রসাদ গুপ্তকে খুনের কথাও স্বীকার করেন।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এই অপরাধের পিছনে একটি সংগঠিত গাড়ি চুরি চক্র কাজ করে থাকতে পারে। ধৃত তিন জন ছাড়াও এই চক্রে আরও কেউ যুক্ত রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃতদের আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তিন অভিযুক্তকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।


