Bengal Liberty: ১৬৫টিরও বেশি দেশে পরিষেবা দেওয়ার অনুমতি রয়েছে স্টারলিঙ্কের। ভারতের নিয়ম-কানুন মেনে চলার জন্য গত পাঁচ বছর ধরে একের পর এক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবিও করেছে সংস্থাটি। তারপরেও ভারতে কেন এখনও পুরোপুরি পরিষেবা চালু করতে পারছে না স্টারলিঙ্ক? এই প্রশ্ন তুলেই এবার সরব হলেন সংস্থার কর্ণধার এলন মাস্ক। তাঁর বক্তব্য ঘিরেই ফের তুঙ্গে উঠেছে স্টারলিঙ্কের ভারত-প্রবেশ নিয়ে বিতর্ক।
নিয়ম মেনেও কেন এত দেরি?
মাস্কের বক্তব্যের মূল প্রশ্ন, বিশ্বের ১৬৫টিরও বেশি দেশে স্টারলিঙ্ক বৈধভাবে পরিষেবা দিতে পারলে এবং ভারতের প্রতিটি আইন ও সরকারি প্রয়োজনীয়তা মেনে চলার জন্য পাঁচ বছর ধরে কাজ করে থাকলে, তাহলে এখনও কেন পরিষেবা শুরুর জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে? তাঁর দাবি, ভারতের বাজারে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ম মেনে চলার ক্ষেত্রে স্টারলিঙ্ক কোনও গাফিলতি করেনি।
নিরাপত্তা ছাড়পত্রই বড় বাধা?
ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা চালুর ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবহারকারীদের তথ্য, নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছে তথ্য পৌঁছনোর মতো একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখছে কেন্দ্র।
আরও খবর
এই নিরাপত্তা যাচাই এখনও সম্পূর্ণ না হওয়ায় স্টারলিঙ্কের বাণিজ্যিক পরিষেবা শুরুর পথে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। শুধু স্টারলিঙ্ক নয়, অন্যান্য স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সংস্থাকেও একই ধরনের প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে বলে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে।
স্পেকট্রাম নিয়েও অপেক্ষা
শুধু লাইসেন্স থাকলেই ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা শুরু করা সম্ভব নয়। প্রয়োজনীয় স্পেকট্রাম বরাদ্দও করতে হবে। সেই প্রক্রিয়াও এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। ফলে লাইসেন্স পাওয়ার পরেও পরিষেবা চালু করার ক্ষেত্রে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ রয়েছে।
আম্বানিকে ঘিরেও মাস্কের প্রশ্ন
এর মধ্যেই ভারতের টেলিকম বাজার নিয়ে মাস্কের মন্তব্য নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। মাস্ক অভিযোগ করেছেন, কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে স্টারলিঙ্কের ভারত-প্রবেশে বাধা তৈরি করতে পারে। এমনকি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, “Is Ambani the real boss of India?”
তবে মাস্কের এই অভিযোগের পক্ষে এখনও প্রকাশ্যে কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ সামনে আসেনি। কেন্দ্রের বক্তব্যও ভিন্ন। সরকারের দাবি, স্টারলিঙ্ককে আলাদা করে আটকে রাখা হচ্ছে না। নিরাপত্তা যাচাই এবং নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া সব স্যাটেলাইট পরিষেবা সংস্থার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
অর্থাৎ, স্টারলিঙ্কের ভারত-প্রবেশের দরজা পুরোপুরি বন্ধ নয়, কিন্তু সেই দরজা খুলতে এখনও বাকি রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অনুমোদন।


