Nepal Flash Flood
Nepal Flash Flood

Nepal Flash Flood : ত্রিশূলীর সুড়ঙ্গে শেষ আশাও শেষ, সমাপ্ত হল উদ্ধারকাজ

Bengal Liberty : নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানের পর উদ্ধারকাজে একদিকে যেমন মিলছে বেঁচে ফেরার আশার আলো, তেমনই সামনে আসছে মৃত্যুর নির্মম বাস্তবতা (Nepal Flash Flood)। ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে ন’দিন পর দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধারের পর আশা জেগেছিল, ভিতরে হয়তো আরও কেউ আটকে রয়েছেন। কিন্তু সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধারকারীরা নিশ্চিত করেছেন, সেখানে আর কোনও শ্রমিক জীবিত বা মৃত অবস্থায় নেই। ফলে ওই সুড়ঙ্গে উদ্ধারকাজও শেষ করে দেওয়া হয়েছে (Nepal Flash Flood)।

Nepal Flash Flood
Nepal Flash Flood

সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্তে শুধু কাদা-মাটি (Nepal Flash Flood)

নেপালের সশস্ত্র পুলিশবাহিনী (এপিএফ)-র সাত সদস্যের একটি বিশেষ দল ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে প্রবেশ করে। তাঁদের সঙ্গে উদ্ধারকাজে যোগ দেয় নেপালি সেনার একটি দলও। সুড়ঙ্গের ভিতরে হামাগুড়ি দিয়ে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট এগিয়ে শেষ প্রান্ত পর্যন্ত তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু কোথাও জীবিত বা মৃত শ্রমিকের সন্ধান মেলেনি।

এপিএফ সদস্য অম্বর মাহাত জানান, প্রকল্পের প্রায় প্রতিটি অংশই কাদা ও মাটির নীচে চাপা পড়ে রয়েছে। কোথাও আবার পাথরের স্তূপ জমে রয়েছে। হড়পা বানের প্রবল জলের চাপে সুড়ঙ্গের উপরের স্ল্যাবও ভেঙে পড়েছে। ফলে সেখানে আর কারও আটকে থাকার সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করছেন উদ্ধারকারীরা। শেষ পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়েও কাউকে না পাওয়ায় ওই সুড়ঙ্গের উদ্ধার অভিযান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

Advertisement
Advertisement

ন’দিন পর ফিরলেন সঞ্জয়-কবীর (Nepal Flash Flood)

ত্রিশূলীর সেই সুড়ঙ্গ থেকেই ন’দিন পর শুক্রবার জীবিত উদ্ধার করা হয় দুই শ্রমিক-সঞ্জয় শাহ এবং কবীর মহারাজনকে। তাঁদের উদ্ধারের সময় সুড়ঙ্গের ভিতর থেকে আরও কয়েকজনের কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে বলে দাবি উঠেছিল। সেই কারণেই নতুন করে আশার আলো দেখেছিলেন উদ্ধারকারীরা। কিন্তু পরবর্তী তল্লাশিতে সেই আশার বাস্তব প্রমাণ মেলেনি। সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত গিয়ে উদ্ধারকারীরা নিশ্চিত হয়েছেন, সেখানে আর কেউ নেই।

সঞ্জয় ও কবীরকে উদ্ধারের পর চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুতে পাঠানো হয়েছে। সুড়ঙ্গ থেকে বেরিয়ে সঞ্জয় জানান, হড়পা বান আসার খবর পেয়ে তিনি প্রথমে অন্য শ্রমিকদের নিরাপদে বের করে আনার চেষ্টা করছিলেন। সেই কারণেই তাঁর নিজের বেরোতে দেরি হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সুড়ঙ্গের ভিতরেই আটকে পড়েন তিনি। ন’দিন ধরে অন্ধকার সুড়ঙ্গের ভিতরে কী ভাবে বেঁচে ছিলেন, সেই অভিজ্ঞতাও জানিয়েছেন সঞ্জয়। তাঁর কথায়, দিনের পর দিন তিনি মন্ত্র জপ করেছেন এবং ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছেন। শেষ পর্যন্ত জীবিত অবস্থায় বাইরে আসতে পারবেন-এমন আশা নিজেও করেননি।

Advertisement
Advertisement

তবে দুই শ্রমিকের জীবিত উদ্ধারের আনন্দের মাঝেও নেপালের বিপর্যয়ের ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। শুক্রবার পর্যন্ত হড়পা বানে ১,২৮৭টি দেহ উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এখনও নিখোঁজ পাঁচ হাজার তিনশোরও বেশি মানুষ। ফলে ত্রিশূলীর সুড়ঙ্গের উদ্ধারকাজ শেষ হলেও, নেপালজুড়ে নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত।

আরও পড়ুন :

https://bengalliberty.com/2026/09/05/nepal-8/

Bengal liberty
Bengal liberty

Bengal Liberty is a platform dedicated to guerrilla, unfiltered, and independent journalism. Through YouTube, its official website, and various social media channels, Bengal Liberty seeks to present citizen journalism to the public with integrity and transparency. Editor: Bittu Roy Chowdhury