Bengal Liberty: শ্যামবাজারে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তির পাদদেশে তৃণমূলের কর্মসূচিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে ‘চোর-চোর’ স্লোগান ওঠার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল। এই ঘটনার পরই মুখ খোলেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্যে সরাসরি নিশানা করা হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Dilip Ghosh)।

নেতাজি প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, নরেন্দ্র মোদীই দিল্লির বুকে নেতাজির মূর্তি স্থাপন করেছেন এবং গোটা বিশ্বে নেতাজির আদর্শকে পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতাজির নাম নিয়ে রাজনীতি করেছেন এবং হঠাৎ দেশপ্রেমিক হওয়ার চেষ্টা করছেন।
এর পরেই রাজ্যের দুর্নীতি প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, তৃণমূলের একাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এবং বহু নেতা ইতিমধ্যেই জেলে গিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই দলে চুরি ও দুর্নীতি বেড়েছে। সেই কারণেই সাধারণ মানুষ তাঁকে ‘চোর’ বললে তা শুনতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরও খবর
দিলীপের মন্তব্য নিয়ে পাল্টা তোপ বিরোধীদের (Dilip Ghosh)
দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, রাজ্যে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘চোরের রানি’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। তবে এই মন্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের পুরনো মন্তব্যের উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, তিনি নিজে এই কথা বলছেন না, বরং কুণাল ঘোষই একসময় এমন মন্তব্য করেছিলেন। এখন সাধারণ মানুষ একই কথা বললে আপত্তির কারণ কী, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তবে দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যকে ঘিরে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছে কালীঘাট তৃণমূল। বিরোধীদের বক্তব্য, কিছুদিন আগে দীঘার জগন্নাথ মন্দিরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করার পর দিলীপ ঘোষ নিজেই বলেছিলেন, তাঁর দলের লোকজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনও অভিযোগ নেই। সেই মন্তব্যের সঙ্গে বর্তমান বক্তব্যের সামঞ্জস্য নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবারের কর্মসূচির আগে হালিশহর যাওয়ার পথেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ উঠেছিল। পরপর এই ঘটনাগুলিকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিজেপির দাবি, বাংলার মানুষ আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চাইছেন না, তাই জনরোষ প্রকাশ্যে আসছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের পাল্টা অভিযোগ, পরিকল্পিত ভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হেনস্তা করা হচ্ছে (Dilip Ghosh)।
পুরো ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচি বা প্রতিবাদে বাধা দেওয়া হলে তা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বলেই মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের। একই সঙ্গে এমন ঘটনায় শাসক-বিরোধী সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে শ্যামবাজারের ‘চোর-চোর’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা।

আরও পড়ুনঃ
https://bengalliberty.com/2026/08/12/malda-school/


