কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন সরকারি জমিতে বেআইনিভাবেও বসবাস করলেও, প্রশাসন নিজের ইচ্ছেমতো বুলডোজার এনে তাদের ঘরবাড়ি ভেঙে দিতে বা জোর করে সরিয়ে দিতে পারে না। উচ্ছেদের ক্ষেত্রে অবশ্যই সঠিক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। কলকাতা হাই কোর্ট ভুটান-জয়গাঁ সীমান্তে স্থলবন্দর নির্মাণ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একটি বস্তি উচ্ছেদ মামলায় এমনটাই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে। আদালতের অবকাশকালীন ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ধরনায় বসা মানেই তাঁরা দখলদার হয়ে যায় না। তাঁরা সরকারি জমিতে বেআইনিভাবে বসবাস করছেন বলে অভিযোগ উঠলেও, প্রশাসন ইচ্ছেমতো তাঁদের ঘরবাড়ি ভেঙে দিতে বা জোর করে সরিয়ে দিতে পারে না। বুলডোজার আনা যায় না।জমি থেকে কাউকে উচ্ছেদ করতে হলে অবশ্যই আইনি পদ্ধতি মেনে চলতে হবে। এমনই পর্যবেক্ষণ কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য ও বিচারপতি অর্জুন রায় মুখোপাধ্যায়ের অবকাশকালীন ডিভিশন বেঞ্চের।
আদালতের আরও পর্যবেক্ষণ, সমাজের সব মানুষ সমান সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বড় হননি। বিচারপতির কথায়, “যারা মুখে সোনার চামচ নিয়ে জন্মেছেন, আর যাঁদের জীবনের ন্যূনতম প্রয়োজন মেটাতে প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হচ্ছে, তাঁদের পথচলা একই জায়গা থেকে শুরু হয়েছে বলে ধরা যায় না”।
অভিযোগ, প্রস্তাবিত স্থলবন্দর নির্মাণের জন্য চলছিল বস্তি উচ্ছেদ। চা মজদুর সংগঠনের দাবি, পুজোর মধ্যে সেখানে চলে বুলডোজার। এরপর মামলার জলগড়ায় কলকাতা হাই কোর্ট পর্যন্ত। শুনানিতে রাজ্য সরকারের তরফে উচ্ছেদের পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করা হয়। এই বিষয়ে সরকারের দাবি, প্রকল্পের কাজে বাধা দিচ্ছেন জমিতে থাকা লোকজন। তাঁরা বিক্ষোভ দেখিয়ে কাজ বন্ধ করে রাখছেন বলেও অভিযোগ ওঠে। অন্যদিকে কেন্দ্রের দাবি, স্থলবন্দর কৃর্তৃপক্ষ প্রায় ২২ কোটি টাকা খরচ করে এই প্রকল্পের কাজ করছেন। রাজ্যের সরকারের দেওয়া জমি কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ওইখানে চা বাগানে শ্রমিকরা কাজ করতেন। সেই কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কাউকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে না। বরং কাজে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে শ্রমিকদের তরফে। এমনটাই অভিযোগ। এই ঘটনায় পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এফআইআর দায়ের করেছে। কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।


