Bengal Liberty, kolkata :
ভোটার তালিকা বিতর্ক ঘিরে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দফতর চত্বর ফের উত্তপ্ত Voter list controversy। বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে স্ট্র্যান্ড রোড ও হেয়ার স্ট্রিটের সংলগ্ন এলাকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে কমিশন দফতরের সামনে জারি করা হয়েছে ১৬৩ ধারা।

কী ঘটেছে?
বুধবার সকালে স্ট্র্যান্ড রোড ও হেয়ার স্ট্রিটের সংলগ্ন এলাকা দিয়ে মিছিল এগোনোর কথা ছিল SUCI সমর্থকদের। আগাম সতর্কতায় পুলিশ ব্যারিকেড বসিয়ে দেয়। মিছিল পৌঁছতেই বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের বচসা শুরু হয়, যা দ্রুত ধস্তাধস্তিতে রূপ নেয়। ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্ট্র্যান্ড রোডের বিস্তীর্ণ অংশ কার্যত অচল হয়ে পড়ে। হাওড়াগামী একাধিক বাস দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকে। অফিস টাইমে এই অচলাবস্থায় ভোগান্তির শিকার হন নিত্যযাত্রীরা।

কেন এই বিক্ষোভ?
এই বিক্ষোভের মূল কারণ ভোটার তালিকা ঘিরে ক্রমবর্ধমান সন্দেহ ও ক্ষোভ। অভিযোগ উঠেছে, আসন্ন নির্বাচনের আগে পরিকল্পিতভাবে ভুয়ো নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে এবং বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক স্তরে প্রভাব খাটানো হচ্ছে বলেও দাবি আন্দোলনকারীদের। বিশেষ করে ‘ফর্ম ৬’ নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক—যেখানে এক ব্যক্তির কাছে বিপুল সংখ্যক আবেদনপত্র পাওয়া যায়—তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী রাজনৈতিক মহলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বৃহত্তর কারচুপির চেষ্টা চলছে। সেই কারণেই ক্ষোভ জমে রাস্তায় নামে আন্দোলনকারীরা, এবং সিইও দপ্তরের সামনে এই বিক্ষোভ বিস্ফোরক আকার ধারণ করে।
আরও খবর

‘হটস্পট’ কেন সিইও দফতর?
গত কয়েকদিন ধরেই সিইও দপ্তরকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ছে। কখনও রাজনৈতিক সংঘর্ষ, কখনও রাতভর বিক্ষোভ সব মিলিয়ে এলাকা কার্যত ‘হটস্পট’-এ পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোটের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR) ঘিরে এই অস্থিরতা আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক সংঘর্ষের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। দফতরের সামনে জারি করা হয়েছে ১৬৩ ধারা, যাতে কোনও বড় জমায়েত বা অশান্তি এড়ানো যায়। উল্লেখ্য ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক যত বাড়ছে, ততই উত্তপ্ত হচ্ছে রাজ্য রাজনীতি। প্রশ্ন উঠছে গণতন্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি, ভোটার তালিকা—তা নিয়েই যদি এই মাত্রার অস্থিরতা তৈরি হয়, তবে আসন্ন ভোটে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে?
এখন নজর একটাই এই উত্তেজনা কি শুধুই বিক্ষোভে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি বড় রাজনৈতিক সংঘর্ষের দিকে এগোচ্ছে বাংলা?


