Bengal Liberty : দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে সোমবার বিধানসভায় বিশেষ প্রস্তাব পেশ করতে চলেছে কেরল সরকার। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেই এই পদক্ষেপ। মুখ্যমন্ত্রী ভিডি সতীশনের নেতৃত্বে কংগ্রেসের সরকার এই প্রস্তাব আনতে চলেছে। শাসক দল ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট সরকারের পাশাপাশি বিরোধী সমগ্র বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট এবং বিজেপি বিরোধী অন্য দলগুলিরও পূর্ণ সমর্থন প্রস্তাবের পক্ষে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। প্রস্তাবটি পাস হলে সংশ্লিষ্ট নথি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং লোকসভার স্পিকারের দফতরে পাঠানো হবে।
কেন এই পদক্ষেপ?
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়া ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। কেরল সরকারের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে বহু মানুষ তাঁদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। এই পরিস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদে পরিবর্তনের দাবি তুলতে চলেছে রাজ্য সরকার। তাদের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনতেই এই পদক্ষেপ।

SIR-এর ত্রুটি সংশোধন ও নিয়োগ ব্যবস্থায় বদলের সুপারিশ
প্রস্তাবে শুধু প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের দাবিই নয়, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার ত্রুটি দূর করার কথাও বলা হয়েছে। যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, সেই প্রকৃত ভোটারদের নাম পুনরায় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ সংক্রান্ত বর্তমান আইন পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আরও স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা চালুর পক্ষেও সওয়াল করা হয়েছে। কেরল সরকারের অভিযোগ, দলিত, সংখ্যালঘু, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, পরিযায়ী শ্রমিক এবং তরুণ ভোটারদের নাম বাদ পড়লে গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়।
আরও খবর
বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সংশয় নেই
১৪০ আসনের কেরল বিধানসভায় ইউডিএফের হাতে রয়েছে ১০২টি আসন। বিরোধী এলডিএফের আসনসংখ্যা ৩৫। বিজেপির হাতে রয়েছে ৩টি আসন। এই সমীকরণে প্রস্তাবটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। উল্লেখ্য, গত বছরের সেপ্টেম্বরে তৎকালীন এলডিএফ সরকারও SIR প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিধানসভায় প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল বলে জানা গিয়েছে। এবার কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন সরকার একই বিতর্কে আরও এক ধাপ এগিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের দাবি তুলছে। প্রস্তাবটি বিধানসভায় অনুমোদিত হলে তা প্রধানমন্ত্রী ও লোকসভার স্পিকারের দফতরে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বিধানসভার প্রস্তাবের মাধ্যমে সরাসরি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণ করা যায় না। তাঁর অপসারণের জন্য সংবিধান নির্ধারিত পৃথক প্রক্রিয়া রয়েছে।


