Bengal Liberty : মোদি সরকারের অন্দরেই কি রয়েছেন রাহুল গান্ধীর ২০০ ‘চর’? কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দফতরে কর্মরত অন্তত ২০০ জন উচ্চপদস্থ আধিকারিক তাঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। তাঁদের কাছ থেকেই সরকারের ভিতরের খবর পান বলে দাবি করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সোমবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে এমনই বিস্ফোরক দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি ভোট চুরির অভিযোগ, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবি এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি।
সরকারের বিভিন্ন দফতরে যোগাযোগ রাহুলের!
সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানান রাহুল। তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দফতরে কর্মরত আধিকারিকেরা নিয়মিত বিরোধী দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। সেই তালিকায় রয়েছে ইডি, সিবিআই এবং বিদেশমন্ত্রকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতর। রাহুলের কথায়, “মোদীজি, আপনি শুনলে চমকে যাবেন। আপনার সরকারের অন্তত ২০০ জন আধিকারিক আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।” তিনি আরও বলেন, “ইডি, সিবিআই, বিদেশমন্ত্রক-সব জায়গা থেকেই আমরা খবর পাচ্ছি। আপনার যা খুশি করুন, কিন্তু সত্য আমাদের সঙ্গে রয়েছে।”

জ্ঞানেশকে রাজসাক্ষী হওয়ার পরামর্শ রাহুলের
রাহুলের দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার প্রবল চাপের মধ্যে রয়েছেন। ইঙ্গিতপূর্ণ ভাবে বলেন, “জ্ঞানেশ কুমার ভয়ে আছেন। রাতে ঘুমোতে পারছেন না।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং শিল্পপতি গৌতম আদানির বিরুদ্ধে জ্ঞানেশের উপর চাপ সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। রাহুলের বক্তব্য, জ্ঞানেশ পদত্যাগ করে রাজসাক্ষী হলে সেটাই হবে তাঁর প্রকৃত দেশসেবা। একই সঙ্গে নির্বাচনী ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবি তুলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ। তাঁর কথায়, “সংবিধান আক্রান্ত হচ্ছে। এই প্রতিরোধ এক দিনের নয়। আমরা থামব না। এটা চলবে। জনআন্দোলন হবে এটা।”
আরও খবর
মোদি সরকারকে কটাক্ষ
ভোট চুরির অভিযোগ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলন ঘিরেও কেন্দ্রকে নিশানা করেন রাহুল। তাঁর অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সত্ত্বেও দিল্লিতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক পুলিশি পদক্ষেপ করা হচ্ছে। শনিবারের ধরপাকড়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, গোটা দিল্লিকে কার্যত জেলখানায় পরিণত করা হয়েছে। রাহুলের এ-ও দাবি যে, ৫০ শতাংশ পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন যে, বিরোধীরা ঠিক কাজ করছেন এবং বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়া উচিত। রাহুলের আরও দাবি, পুলিশ, আইটিবিপি, সিআরপিএফ এবং দেশের সাধারণ মানুষ তাঁদের পাশেই রয়েছে। অন্যদিকে, ভোট চুরি এবং দেশকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টায় যুক্ত ব্যক্তিরা বিরোধীদের বিপক্ষে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন কংগ্রেস নেতা।
জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে আন্দোলনের প্রসঙ্গে ব্যঙ্গের সুরে রাহুল বলেন, “তাঁকে বাঁচাতে সরকার চাইলে ২০-৩০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করতে পারে।” তাঁর আরও দাবি, গত ১২ বছরে মানুষের মনে জমে থাকা ক্ষোভ এখন প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। সরকারের প্রতিরোধ যত বাড়বে, বিরোধীরা ততই ক্ষমতার নিয়ন্ত্রকদের কাছে পৌঁছবে।


