Bengal Liberty : ভোটের আগেই তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বিহারের ঘরে ঘরে একেবারে বিনামূল্যে মিলবে মাসে ১২৫ ইউনিট বিদ্যুৎ। সেই প্রতিশ্রুতিকে হাতিয়ার করেই নির্বাচনী প্রচারে নেমেছিল বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএ। এমনকী, জোটের নির্বাচনী ইস্তাহারেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল ১২৫ ইউনিট বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার কথা। অথচ ভোট মিটতেই এবার সেই সুবিধা স্বেচ্ছায় ছেড়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। অবশ্য এই আবেদন তিনি বিত্তশালী ও আয়করদাতাদের কাছে জানিয়েছেন। এদিকে এর পরেই প্রশ্ন উঠছে, নির্বাচনের আগে যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাওয়া হয়েছিল, এখন তার আর্থিক বোঝার কথা বলে কি সেই দায় সাধারণ মানুষের উপরেই ঠেলে দিতে চাইছে সরকার?
রবিবার পাটনায় দু’দিনের ‘পাটলিপুত্র ন্যাশনাল ইয়ুথ পার্লামেন্ট ২.০’-এর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী।সেখানে তিনি বলেন, আর্থিকভাবে স্বচ্ছল পরিবার এবং আয়করদাতারা যেন স্বেচ্ছায় ১২৫ ইউনিট বিনামূল্যে বিদ্যুতের সুবিধা ছেড়ে দেন। তাঁর দাবি, রাজ্যের উন্নয়নের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। কারণ মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, বিদ্যুৎ ভর্তুকি দিতে রাজ্য সরকারের বছরে প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। প্রতিটি পরিবারের জন্য বছরে আনুমানিক ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তাঁর মতে, যাঁদের আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে, তাঁরা এই সুবিধা না নিলে সরকারের উপর আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে।
কিন্তু এখানেই রাজনৈতিক মহলে উঠছে প্রশ্ন। ২০২৫ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে এনডিএ-র যৌথ ‘সংকল্পপত্রে’ ১২৫ ইউনিট বিনামূল্যে বিদ্যুতের প্রতিশ্রুতি ছিল। নির্বাচনের আগে এই প্রকল্পের ঘোষণা করে সরকার জানিয়েছিল, রাজ্যের বিপুল সংখ্যক পরিবার এর সুবিধা পাবে। তখন কি এই বিপুল আর্থিক ব্যয়ের হিসাব জানা ছিল না? আর যদি জানা থাকে, তা হলে নির্বাচনের আগে এই প্রতিশ্রুতি দেওয়ার অর্থ কী?
আরও খবর
এখন সরকারের আর্থিক চাপের কথা তুলে ধরে সুবিধাভোগীদেরই তা ছেড়ে দেওয়ার আবেদন জানানোয় বিরোধীদের সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে। কারণ, নির্বাচনের আগে কোনও প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলে তার আর্থিক পরিকল্পনা ও দীর্ঘমেয়াদি দায়ভার নির্ধারণ করা সরকারেরই দায়িত্ব। ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে সেই সুবিধা ত্যাগের আবেদন জানানো হলে সরকারের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। এমনটাই দাবি বিরোধীদের।


