Bengal Liberty : রাজনীতির ময়দান থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েও শেষ পর্যন্ত ফের সক্রিয় হুমায়ুন কবীর! রেজিনগর উপনির্বাচনে নিজের দলের প্রার্থীর পরাজয়ের পরেই রাজনীতি ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর।
নির্বাচনে পরাজয়ের পর সাংবাদিকদের সামনে আবেগপ্রবণ হয়ে চোখের জল ফেলতেও দেখা গিয়েছিল তাঁকে। কিন্তু সেই ঘটনার কয়েক সপ্তাহ কাটতে না কাটতেই ফের পুরনো মেজাজে ফিরলেন তিনি। এবার সরাসরি প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আগামী ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ প্রতিষ্ঠার দিন জাতীয় সড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি দিলেন হুমায়ুন।
রবিবার বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়-ব্যয়ের হিসাব সংক্রান্ত একটি সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে হুমায়ুন কবীর ঘোষণা করেন, ‘‘আগামী ৬ ডিসেম্বর রেজিনগর থেকে বহরমপুর পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক কব্জায় রাখব। প্রশাসনের ক্ষমতা থাকলে আটকে দেখাক।’’ শুধু তাই নয়, ওই দিন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষকে তাঁর সঙ্গে রাস্তায় নামার আহ্বানও জানান তিনি।
আরও খবর
তবে হুমায়ুনের এই হুঁশিয়ারির পালটা জবাব দিয়েছেন রেজিনগরের বিজেপি বিধায়ক শাখারভ সরকার। তাঁর বক্তব্য, ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর যখন বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল, তখন রাজ্যে তৃণমূলের সরকার ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের ৬ ডিসেম্বর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। বর্তমানে রাজ্যে বিজেপির সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফলে প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হুমায়ুন যে রাস্তা অবরোধের কথা বলছেন, তা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, তা সময়ই বলবে। এই ঘটনাও ইতিহাসে লেখা থাকবে বলে পালটা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক।
উল্লেখ্য, তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন হুমায়ুন। এই মসজিদকে সামনে রেখেই নিজের নতুন দলের প্রচার চালিয়ে গিয়েছেন তিনি। এরপর কেটে গিয়েছে বিধানসভা নির্বাচন। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলও হয়েছে।
কিন্তু মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে ফের একবার এই মসজিদকে সামনে রেখেই প্রচারের আলোয় আসার চেষ্টা করছেন হুমায়ুন, এমনই দাবি রাজনৈতিক মহলের।রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেওয়ার পর হুমায়ুনের এই প্রত্যাবর্তন ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।


