Bengal Liberty : কলকাতা পুরসভার আসন্ন নির্বাচনের আগে ওয়ার্ডের সীমানা এবং বুথ বিন্যাস নিয়ে নতুন করে বিতর্ক। খসড়া ভোটকেন্দ্রের তালিকায় পুরনো ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন অংশ তিনটি নতুন ওয়ার্ডের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার অভিযোগ তুলল কংগ্রেস। বিশেষ করে ২৬ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বুথ বিন্যাসে ব্যাপক অসামঞ্জস্য রয়েছে বলে দাবি তাদের। এই পরিস্থিতিতে ওই দুই ওয়ার্ডের কাঠামো পুনর্বিন্যাসের দাবি জানিয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি দিলেন পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়। সোমবার ২ নভেম্বর কলকাতা পুরসভার বরো ৩-এর মিউনিসিপ্যাল রিটার্নিং অফিসার নীলাদ্রি শেখর দে-কে চিঠি দিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা এবং শুনানির আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
চিঠিতে আশুতোষের দাবি, রাজ্য নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত খসড়া ভোটকেন্দ্রের তালিকা খতিয়ে দেখতে গিয়ে পুরনো ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন অংশের বিন্যাসে একাধিক অসঙ্গতি নজরে এসেছে। তাঁর অভিযোগ, পুরনো ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন অংশকে নতুন ২৫, ২৬ এবং ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই বণ্টনের ক্ষেত্রে কোনও সামঞ্জস্য বজায় রাখা হয়নি।
কংগ্রেস নেতার দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, নতুন ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে পুরনো ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছ’টি অংশ এবং পুরনো ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ১৮টি অংশ যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ, এই ওয়ার্ডে মোট ২৪টি অংশ বা বুথ রয়েছে। অন্যদিকে, পুরনো ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাকি ৫০টি অংশ নতুন ২৬ এবং ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, নতুন ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে রয়েছে মাত্র ১৪টি অংশ। সেখানে ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে অংশের সংখ্যা ৩৬। পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ওয়ার্ডের মধ্যে বুথের সংখ্যায় এতটা পার্থক্য কেন, সেই প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস।
আরও খবর
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের মূল উদ্দেশ্য ছিল আয়তন এবং জনসংখ্যার নিরিখে বিভিন্ন ওয়ার্ডের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখা। কিন্তু বর্তমান খসড়া তালিকায় ২৬ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে যে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে, তা সেই উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে দাবি আশুতোষের।
কংগ্রেস নেতার দাবি, এই পুনর্বিন্যাসের আগে কলকাতা পুরসভার কমিশনার রাজ্য সরকারের কাছে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ২২টি এবং ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে ২৬টি অংশ রাখার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেই প্রস্তাব অনুযায়ী দুই ওয়ার্ডের মধ্যে বুথের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই কাঠামো পরিবর্তন করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে পুরসভার কমিশনারের আগের প্রস্তাব অনুযায়ী ২৬ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাঠামো পুনর্বিন্যাসের আর্জি জানিয়েছেন আশুতোষ। পাশাপাশি, খসড়া তালিকায় থাকা অসঙ্গতি নিয়ে দ্রুত ব্যাখ্যা এবং শুনানির ব্যবস্থা করারও দাবি জানিয়েছেন তিনি। এখন কংগ্রেসের এই আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


