Bengal Liberty : মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় রাজ্যের ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টারগুলিতে কর্মরত শিক্ষক ও প্রশিক্ষকদের শিক্ষাগত, কারিগরি এবং পেশাগত যোগ্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ডিরেক্টরেট অফ ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং (ডিভিইটি)। রাজ্যের বিভিন্ন জেলার মোট ১০ হাজার ৮৭৬ জন শিক্ষক ও প্রশিক্ষককে এই যাচাই প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হচ্ছে। তাঁদের নথি পরীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে দফতর। আগামী দিনে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রোফাইল সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ করতেই এই পদক্ষেপ বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। মমতার জমানায় এই নিয়োগে কোনও দুর্নীতি হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে জানতেই এমন পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে । যেহেতু মমতার সরকার রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগে বড়সড় দুর্নীতি করেছে, তাই এই নিয়োগও আতশকাচের তলায় পড়ে গিয়েছে ।
গত ২৯ অক্টোবর জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টারগুলিতে (ভিটিসি) নিযুক্ত সমস্ত শিক্ষক ও প্রশিক্ষকের যোগ্যতা যাচাই করা হবে। i-OSMS পোর্টালে তাঁদের প্রোফাইল আপডেট করার উদ্দেশ্যেই এই প্রক্রিয়া। টিইটি অ্যান্ড এসডি দফতরের অনুমোদিত নির্দেশিকা মেনে যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন হবে। তবে বিজ্ঞপ্তিতে নিয়োগে কোনও অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এই পদক্ষেপকে নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। আপাতত সরকারি নির্দেশের মূল লক্ষ্য নথি যাচাই এবং তথ্য হালনাগাদ।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও প্রশিক্ষকদের প্রথমে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের প্রধানের (এইচওআই) কাছে প্রয়োজনীয় নথির প্রতিলিপি জমা দিতে হবে। তার মধ্যে রয়েছে শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র, কারিগরি যোগ্যতার শংসাপত্র অথবা ভোকেশনাল ও পেশাগত যোগ্যতার প্রমাণপত্র। পাশাপাশি জন্মতারিখের প্রমাণ, মার্কশিট এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতার শংসাপত্রও জমা দিতে হবে। কোন কর্মীর ক্ষেত্রে যে নথি প্রযোজ্য, তা জমা দেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্মীর।
আরও খবর
এর পর প্রতিষ্ঠানের প্রধান অথবা টিআইসি-কে i-OSMS পোর্টালে নথিগুলি আপলোড করতে হবে। আগামী ১৩ নভেম্বর থেকে ১৯ নভেম্বরের মধ্যে এই কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূল নথির স্ক্যান করা কপি আপলোডের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের প্রধানের স্বাক্ষর ও সিল-সহ পোর্টালে তৈরি হওয়া সংকলিত রিপোর্টও জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইন নথি জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
এর পর শুরু হবে সরাসরি নথি যাচাই। আগামী ২০ নভেম্বর থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্দিষ্ট সরকারি পলিটেকনিকগুলিতে এই প্রক্রিয়া চলবে। প্রত্যেক কর্মীর জমা দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মূল শংসাপত্র মিলিয়ে দেখবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকেরা। সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও প্রশিক্ষকদের নির্ধারিত দিনে উপস্থিত হয়ে শিক্ষাগত, কারিগরি, ভোকেশনাল ও পেশাগত যোগ্যতার মূল শংসাপত্র দেখাতে হবে। সঙ্গে রাখতে হবে জন্মতারিখের প্রমাণপত্র, পরিচয়পত্র, মার্কশিট এবং অভিজ্ঞতার নথি। যাচাই কমিটির কাছে প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা টিআইসি-র সত্যায়িত প্রতিলিপিও জমা দিতে হবে।
বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে সংযুক্ত তালিকায় জেলা, ব্লক ও পুরসভাভিত্তিক প্রার্থীর সংখ্যা এবং যাচাইয়ের কেন্দ্রের উল্লেখ রয়েছে। তালিকা অনুযায়ী, রাজ্যের ২,৫৮২টি ভিটিসির আওতায় মোট ১০,৮৭৬ জনের নথি পরীক্ষা করা হবে। তাঁদের মধ্যে চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক, চুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষক এবং পার্টটাইম শিক্ষক ও প্রশিক্ষকেরা রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সরকারি পলিটেকনিক অথবা ডিভিইটি সদর দফতরের তরফে ভিটিসি-ভিত্তিক তারিখ ও সময় জানিয়ে দেওয়া হবে। যাচাইয়ের কাজে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা চেয়েছে দফতর।


