মমতা বন্দোপাধ্যায়
মমতা বন্দোপাধ্যায়

‘এসআইআর-এর খাঁড়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ’ রামলীলা ময়দান থেকে বার্তা মমতার

Bengal Liberty : ফের জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার রামলীলা ময়দানে সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে তিনি বলেন, বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন দেশের গণতন্ত্রকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করেছে। বাংলায় লক্ষ লক্ষ ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। সমাবেশের শুরুতেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানান তৃণমূলনেত্রী। তিনি বলেন, তেজস্বী যাদব, কপিল সিব্বল, অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুপ্রিয়া সুলে থেকে শুরু করে বাম নেতৃত্ব এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা এই মঞ্চে উপস্থিত রয়েছেন।

নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার সংগঠন ও তরুণ প্রজন্মকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির বিরুদ্ধে সকলে মিলে যে লড়াই শুরু হয়েছে, তাতে জয় নিশ্চিত।কেন্দ্রীয় সরকারকে তুলোধনা করে মমতা বলেন, “আমরা হারিনি, আমাদের হারানো হয়েছে। ভোট লুট করেছে বিজেপি, দেশের গণতন্ত্রকে হরণ করেছে।” তাঁর অভিযোগ, এসআইআর-এর খাঁড়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। এই প্রসঙ্গে কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, এসআইআর-এর প্রকৃত অর্থ হল— ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিলিফ টু আ পলিটিক্যাল পার্টি লাইক বিজেপি’। তাঁর দাবি, শুধু ভোট বা গণতন্ত্র নয়, বাংলার মানুষের চাকরি, সম্মান এবং সাংবিধানিক অধিকার পর্যন্ত কেড়ে নেওয়া হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে আক্রমণ করে তৃণমূলনেত্রী বলেন, শুধু ভোট নয়, পুরোপুরি সেন্ট্রাল হাইজ্যাকিংয়ের মাধ্যমে গণনার প্রক্রিয়াকেও ভ্যানিশ করে দেওয়া হয়েছে।

তাঁর অভিযোগ, বাংলায় এক কোটিরও বেশি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক লড়াই চলবে বলে হুঙ্কার দেন তিনি। এদিনের সমাবেশে ছড়ার সুরে কেন্দ্রকে আক্রমণ করেন মমতা। বহুশ্রুত ‘জনি জনি ইয়েস পাপা’র প্যারোডি করে তিনি বলেন, “ভোট চুরি? ইয়েস পাপা! লোকতন্ত্র চুরি? ইয়েস পাপা!” মন্দির, মসজিদ, ওয়াকফ সম্পত্তি থেকে শুরু করে রামজন্মভূমির তহবিলে দুর্নীতি হয়েছে বলেও আক্রমণ শানান তিনি।

পুলিশ ও কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলির একাংশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মমতা বলেন, এদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে বিজেপি। তবে এই পরিস্থিতি বদলাবে। মমতা বলেন, “বিজেপি যাওয়ার জন্য তৈরি, ওরা যাবেই।” রামপ্রসাদ বিসমিলের কবিতার পঙক্তি উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “সরফরোশি কি তামান্না আজ হামারে দিল মে হ্যায়, দেখনা হ্যায় জোর কিতনা বাজু-এ-কাতিল মে হ্যায়।”

Pushpak Bhattacharya
পুষ্পক ভট্টাচার্য

পুষ্পক ভট্টাচার্য একজন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করার পর ২০২৬-এ Bengal Liberty-তে সাংবাদিক হিসেবে তাঁর পেশাগত যাত্রা শুরু হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদ এবং ক্রীড়া সাংবাদিকতার প্রতি বিশেষ আগ্রহ। দেশ-বিদেশের সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং খেলাধুলার নানা বিষযয়ের প্রতি বিশেষ ঝোঁক। ব্যস্ততার বাইরে বই ও সিনেমা সঙ্গী।