Akhilesh Yadav
Akhilesh Yadav

বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে ভোটে কারচুপির পথ বেছে নিচ্ছেঃ অখিলেশ

Bengal Liberty : মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশ থেকে বাংলায় ভোট লুঠ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনেই সরব হন সমাজবাদী পার্টি নেতা অখিলেশ যাদব। নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে বাংলায় ভোট লুঠ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সেইসঙ্গে বিরোধীদের এই লড়াইকে মহাভারতের সঙ্গে তুলনা করেছেন রাষ্ট্রীয় জনতা দল নেতা তেজস্বী যাদব।ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া এবং ভোটে কারচুপির অভিযোগে রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিশাল সমাবেশের আয়োজন করেছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও উঠেছে সভার মঞ্চ থেকে। সকাল থেকেই সভাস্থলে ভিড় জমাতে শুরু করেন বিরোধী দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা। কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে হুডখোলা বাসে সভাস্থলে পৌঁছন জোটের নেতারা। সেখান থেকেই বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব। বাংলার ভোট নিয়ে সরব হন অখিলেশ। অন্যদিকে, বিরোধীদের লড়াইকে মহাভারতের পাশাখেলার সঙ্গে তুলনা করেন তেজস্বী। এদিন রামলীলা ময়দানের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তাঁর সামনেই বাংলার নির্বাচন প্রসঙ্গ তুলে অখিলেশের অভিযোগ, ‘বাংলায় যেভাবে ভোট লুট করা হয়েছে, তা দেশের কারও কাছে অজানা নয়।’ তাঁর দাবি, নির্বাচনের আগে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েন করে এবং ভোটার তালিকায় কারসাজি করে হাজার হাজার মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। অখিলেশের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে বিজেপি

নির্বাচনে জিততে পারবে না বলেই নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে ভোটে কারচুপির পথ বেছে নিচ্ছে। উত্তরপ্রদেশের ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন সপা প্রধান। তাঁর অভিযোগ, সেই নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টির বহু বৈধ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হলেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। বরং, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগের প্রমাণ চেয়ে তাঁকেই নোটিস পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি অখিলেশের।

তিনি জানান, সমাজবাদী পার্টির কর্মীরা বুথে বুথে গিয়ে এমন বহু ভোটারের সন্ধান পেয়েছিলেন, যাঁরা ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলেন, অথচ ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি। এই অভিযোগের সমর্থনে হলফনামা জমা দেওয়া হলেও কোনও সুরাহা হয়নি বলে দাবি তাঁর। ভোটে অনিয়মের অভিযোগ তুলতে গিয়ে রামপুর লোকসভা নির্বাচন এবং উত্তরপ্রদেশের একাধিক উপনির্বাচনের প্রসঙ্গও আনেন অখিলেশ। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ মোতায়েন করে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছিল।

এমনকি বাড়ি থেকে বের হলে গ্রেফতারির হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। এক পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে মহিলাদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে অখিলেশের বক্তব্য, ‘ভয় দেখিয়েও তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে আটকানো যায়নি।’ বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও তীব্র করে সপা প্রধানের অভিযোগ, শাসকদল এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়, যেখানে শুধু বিজেপির সদস্যদেরই ভোটাধিকার ও নাগরিকত্বের স্বীকৃতি থাকবে। তাঁর কথায়, ভোটাধিকারই একজন নাগরিকের গণতান্ত্রিক শক্তি।

সেই অধিকার রক্ষায় বিরোধীদের একজোট হয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এদিনের সভায় মহাভারতের প্রসঙ্গ টেনে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হন বিহারের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী তথা আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব। তাঁর অভিযোগ, ভোটে কারচুপি করে জেতার চেষ্টা করছে বিজেপি। সেই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে বিরোধীদের লড়াইকে মহাভারতের যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করেন তিনি। তেজস্বীর বক্তব্য, মহাভারতের যুদ্ধ শুরু হয়েছিল পাশাখেলার মধ্য দিয়ে, সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে নয়।

শকুনির পাশাখেলার প্রসঙ্গ টেনে তাঁর অভিযোগ, একই ধরনের কৌশলের মুখে পড়ে আজ বিরোধীদের লড়াই করতে হচ্ছে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটারদের নাম বাদ যাওয়া নিয়েও সরব হন তেজস্বী। তাঁর অভিযোগ, বিহার থেকেই এই প্রক্রিয়ার সূচনা হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তেজস্বীর দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে যে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, তার বিরুদ্ধে লড়াই চলবে।

এই লড়াই থেকে বিহার পিছিয়ে আসবে না বলেও জানান তিনি। সাধারণ মানুষের কাছে বিজেপির কৌশল স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে এবং এই সরকারের পতন অবশ্যম্ভাবী বলেও দাবি করেন আরজেডি নেতা। এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি, ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এদিনের সমাবেশ থেকে সরব হন বিরোধী জোটের নেতারা। অখিলেশ ও তেজস্বীর বক্তব্যে স্পষ্ট, ভোটাধিকার রক্ষার প্রশ্নকে সামনে রেখেই কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই জোরদার করতে চাইছে ‘ইন্ডিয়া’ জোট।

Pushpak Bhattacharya
পুষ্পক ভট্টাচার্য

পুষ্পক ভট্টাচার্য একজন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করার পর ২০২৬-এ Bengal Liberty-তে সাংবাদিক হিসেবে তাঁর পেশাগত যাত্রা শুরু হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদ এবং ক্রীড়া সাংবাদিকতার প্রতি বিশেষ আগ্রহ। দেশ-বিদেশের সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং খেলাধুলার নানা বিষযয়ের প্রতি বিশেষ ঝোঁক। ব্যস্ততার বাইরে বই ও সিনেমা সঙ্গী।