Diwali
৭ ও ৮ নভেম্বর সবুজ বাজি ব্যবহারের অনুমতি সুপ্রিম কোর্টের

৭ ও ৮ নভেম্বর সবুজ বাজি ব্যবহারের অনুমতি সুপ্রিম কোর্টের

Bengal Liberty : সুপ্রিম কোর্ট দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে ৭ ও ৮ নভেম্বর ‘সবুজ বাজি’ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। এর ফলে দীপাবলির আগের দিন এবং দীপাবলির দিম নির্দিষ্ট সকাল ও সন্ধ্যার নির্দিষ্ট সময়ে মানুষ এই বাজি পোড়াতে পারবেন। বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালের বেঞ্চ উভয় দিনেই সকাল ৬টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত এবং রাত ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সবুজ বাজি পোড়ানোর অনুমতি দিয়েছেন। কেন্দ্রের পক্ষে উপস্থিত অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাটিকে বেঞ্চ জানিয়েছে যে, কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে এবং বিধিনিষেধগুলো যাতে যথাযথভাবে পালিত হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

গত সপ্তাহে বেঞ্চ ওই আইন কর্মকর্তাকে বলে, “আমরা জনগণের আবেগ বুঝি। আমরা পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে চাই না, তবে আমাদের এমন কোনো কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য করবেন না।” আদালত জানিয়েছে, আতশবাজির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হলে সব পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন। আদালত পরামর্শ দেয় যে, খেলোয়াড়সহ সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কাজে লাগিয়ে আতশবাজি পোড়ানোর ফলে পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের ওপর যে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে, সে বিষয়ে সচেতনতা ছড়ানো যেতে পারে।

বেঞ্চ মন্তব্য করে, “প্রতি বছরই আমরা একটি ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছি, কিন্তু সবার সহযোগিতা ছাড়া তা সম্ভব নয়।” বিচারপতিরা আরও বলেন যে, বিধিনিষেধগুলো মানা হচ্ছে কি না, তা তদারকি করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে উপস্থিত থাকতে হবে। শুনানি চলাকালীন, অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাটি বেঞ্চকে জানান যে, শীতকালে বায়ুদূষণ মোকাবিলায় দিল্লি সরকার এবং ‘কমিশন ফর এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট’ কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

তিনি জানান, দিল্লি সরকার একটি বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছে, যার বেশ কিছু পদক্ষেপ নভেম্বর মাস থেকে কার্যকর হবে। এর মধ্যে রয়েছে পুরনো যানবাহনের ওপর বিধিনিষেধ, নির্মাণ ও ভাঙার কাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয় রাজধানীতে অফিসের সময়সূচীতে পরিবর্তন আনা। “দূষণের মরশুম—যা দুর্ভাগ্যবশত প্রতি বছরই আসে—তার মোকাবিলা করার জন্য আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত,” আদালতে বললেন ভাটি। কেন্দ্রীয় সরকার বেঞ্চকে আরও জানিয়েছে যে, আতশবাজিতে বেরিয়ামের ব্যবহার নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা চলছে।

ভাটি এই আলোচনা সম্পন্ন করার জন্য তিন সপ্তাহ সময় চেয়েছেন। আদালত জানিয়েছে, এরপরই বিষয়টি নিয়ে শুনানি হবে। এছাড়া, প্রচলিত আতশবাজির ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ কতটা কার্যকর এবং বাজারে বিক্রি হওয়া আতশবাজিগুলো আদৌ ‘গ্রিন ক্র্যাকার’ (পরিবেশবান্ধব আতশবাজি) কি না, তা যাচাই করার ক্ষেত্রে যে জটিলতা রয়েছে—সে বিষয়েও আদালতকে অবহিত করা হয়েছে। স্বতঃপ্রণোদিত এই মামলায় আদালতের সহায়তাকারী আইনজীবী উল্লেখ করেন যে, আতশবাজি পোড়ালে প্রচুর পরিমাণে ক্ষতিকারক সূক্ষ্ম কণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে, যা মানুষের শরীরে প্রবেশ করে ফুসফুসসহ অন্যান্য অঙ্গের ক্ষতি করতে পারে।

তিনি গত সপ্তাহে দশেরার সময় দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে বায়ুর গুণমান সূচক (একিউআই) হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন। পাশাপাশি, প্রস্তুতকারক ও বিক্রেতারা যে আতশবাজিগুলোকে ‘গ্রিন ক্র্যাকার’ বলে দাবি করছেন, তা যাচাই করার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তিনি বেঞ্চকে বলেন, “এমন অনেক প্রতিবেদন রয়েছে যা থেকে দেখা যায়, গত বছর দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে ‘গ্রিন ক্র্যাকার’-এর নাম আড়ালে সাধারণ আতশবাজিই পোড়ানো হয়েছিল।”

Pushpak Bhattacharya
পুষ্পক ভট্টাচার্য

পুষ্পক ভট্টাচার্য একজন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করার পর ২০২৬-এ Bengal Liberty-তে সাংবাদিক হিসেবে তাঁর পেশাগত যাত্রা শুরু হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদ এবং ক্রীড়া সাংবাদিকতার প্রতি বিশেষ আগ্রহ। দেশ-বিদেশের সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং খেলাধুলার নানা বিষযয়ের প্রতি বিশেষ ঝোঁক। ব্যস্ততার বাইরে বই ও সিনেমা সঙ্গী।