Bengal Liberty
অসমের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াল রাজ্য সরকার (Assam Flood)। সোমবার থেকে বন্যাদুর্গত পরিবারগুলিকে আর্থিক সহায়তার প্রথম কিস্তি দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে। বর্তমানে ডিব্রুগড়ে রয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। সেখান থেকেই তিনি বন্যাদুর্গতদের জন্য এই আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির সূচনা করেন।

এখনও উদ্বেগজনক বন্যা পরিস্থিতি Assam Flood
অসমের একাধিক জেলায় এখনও বন্যা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। রবিবার পর্যন্ত বন্যাজনিত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৫-এ পৌঁছেছে। তবে বিভিন্ন এলাকায় জল কিছুটা নামতে শুরু করায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা আগের তুলনায় কমেছে বলে প্রশাসনের দাবি। বর্তমানে প্রায় ১ লক্ষ ৩৬ হাজার ২০০ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শিবসাগর জেলা, যেখানে ৫৫ হাজারেরও বেশি মানুষ বন্যার কবলে পড়েছেন। এছাড়া চড়াইদেও জেলায় প্রায় ৪০ হাজার এবং জোরহাট জেলায় ২২ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

একাধিক জেলায় ত্রাণকেন্দ্র
শিবসাগর, চড়াইদেও, জোরহাট এবং গোলাঘাট জেলার গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে এই অন্তর্বর্তীকালীন আর্থিক সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলি অন্যান্য সরকারি সাহায্যের পাশাপাশি প্রথম কিস্তিতে সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাবেন।
আরও খবর

রাজ্যের পাঁচটি জেলার বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে ৫৪টি ত্রাণ ও বিতরণ কেন্দ্র চালু রয়েছে। সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন ১৩ হাজার ৭১১ জন মানুষ। পাশাপাশি এখনও প্রায় ১৫ হাজার ৪২২ হেক্টর কৃষিজমি জলের তলায় রয়েছে। গোলাঘাট জেলার নুমালীগড় এলাকায় ধানসিঁড়ি নদী এখনও বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে।
দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী
শনিবার পর্যন্ত অসমে প্রায় ১.৮ লক্ষ মানুষ বন্যায় আক্রান্ত ছিলেন। পরবর্তী দু’দিনে সেই সংখ্যা কিছুটা কমলেও দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ এখনও কাটেনি। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা শিবসাগরের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করবেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও তাঁর কথা বলার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে, রাজ্যজুড়ে উদ্ধারকাজ, ত্রাণ বিতরণ এবং ত্রাণশিবির পরিচালনার কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন। বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পুনর্বাসন এবং তাঁদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার কাজই এখন সরকারের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।


