Bengal Liberty
অসমে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও দুর্ভোগ এখনও পুরোপুরি কাটেনি (Assam Flood)। রাজ্যের ৫টি জেলা এখনও বন্যাকবলিত। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৫ লক্ষ ২৪ হাজারেরও বেশি মানুষ জলবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। রবিবার আরও ২ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। এর ফলে চলতি বছরে অসমে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চালাচ্ছে প্রশাসন।

ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে জোর প্রশাসনের Assam Flood
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চরাইদেউ জেলা। সেখানেই নতুন করে ২ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে (Assam Flood)। জেলায় প্রায় ১ লক্ষ ৯০ হাজার মানুষ এখনও বন্যার প্রভাবের মধ্যে রয়েছেন। চরাইদেউ ছাড়াও গোলাঘাট, জোরহাট, নগাঁও এবং শিবসাগর জেলাতেও বন্যার প্রভাব অব্যাহত রয়েছে।

বন্যাদুর্গতদের জন্য ৪টি জেলায় মোট ৩৫৪টি ত্রাণশিবির ও ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র চালু রয়েছে। সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন ৩৭ হাজার ৭২৪ জন বাস্তুচ্যুত মানুষ। সেনাবাহিনী, এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, ফায়ার অ্যান্ড ইমার্জেন্সি সার্ভিস এবং পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
আরও খবর
প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির কাছে চাল-সহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসক দল নিয়মিত স্বাস্থ্য পরিষেবাও দিচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আকাশপথে জরুরি ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি নদীর জলস্তর ও আবহাওয়ার পরিস্থিতির উপরও কড়া নজর রাখা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, বন্যার সময় নিরাপত্তার কারণে বহু এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল। বর্তমানে প্রতিটি এলাকায় নিরাপত্তা পরীক্ষা করে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু করা হচ্ছে। শিবসাগর, জোরহাট, চরাইদেউ, ধুবড়ি, বোঙ্গাইগাঁও-সহ একাধিক জেলায় এই কাজ চলছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অসম ধীরে ধীরে বন্যার ধাক্কা সামলে উঠছে। আমাদের লক্ষ্য দ্রুত সমস্ত জরুরি পরিষেবা স্বাভাবিক করা। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি এলাকাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সরকার বদ্ধপরিকর। খুব শীঘ্রই বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনের কাজ শুরু হবে। ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল, রাস্তা, সেতু-সহ অন্যান্য পরিকাঠামো পর্যায়ক্রমে মেরামত করা হবে। প্রয়োজন হলে নতুন করে পুনর্নির্মাণও করা হবে।”


