Bengal Liberty: “নেশন ফার্স্ট, রাষ্ট্রই প্রথম। এই মন্ত্রে আপনারা কাজ করবেন। সততার সঙ্গে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা মেনে নিজেদের দায়িত্ব পালন করবেন।” লালবাজারে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত পুলিশকর্মীদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিয়ে এই বার্তাই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে রাজ্য পুলিশ ও কলকাতা পুলিশে আগামী দিনে বিপুল সংখ্যক নিয়োগের আশ্বাসও দিলেন তিনি। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং কোনও রকম রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ বরদাস্ত না করার বার্তাও স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
শনিবার লালবাজারে ৩০৯ জন নতুন সাব-ইনস্পেক্টরের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিনের নিয়োগ-জটিলতা কাটিয়েই এই নিয়োগ সম্ভব হয়েছে। ওবিসি সংক্রান্ত আইনি জটিলতার কারণে তৃণমূল সরকারের আমলে পরীক্ষার পরেও নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে ছিল। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ মেনে মামলা প্রত্যাহার করে রাজ্যের নতুন সরকার। সেই আইনি জটিলতা দূর হওয়ার ফলেই নিয়োগের পথ প্রশস্ত হয়েছে। রাজ্য পুলিশের প্রায় ১১ হাজার নিয়োগের পাশাপাশি এই ৩০৯ জনের নিয়োগও সেই প্রক্রিয়ারই অংশ।
শুধু বর্তমান নিয়োগেই থেমে থাকতে চাইছে না সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, আগামী কয়েক মাসে আরও একাধিক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসে রাজ্য পুলিশের ১,৩৩১ জন নতুন এসআই ও এএসআইকে নিয়োগপত্র দেওয়া হবে। পাশাপাশি, জানুয়ারিতে গঙ্গাসাগর মেলার আগে কলকাতা পুলিশের ৪ হাজার কনস্টেবলের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নভেম্বরের শেষেও প্রায় ৯ হাজার নতুন পুলিশকর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারির প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আরও খবর
এ ছাড়াও সাব-ইনস্পেক্টর, সশস্ত্র পুলিশ, কলকাতা পুলিশের কনস্টেবল ও মহিলা কনস্টেবল এবং দমকলের সাব-অফিসার পদে নিয়োগের কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। দীর্ঘদিন নিয়োগ বন্ধ থাকায় কিছু ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমায় ছাড় দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, স্বচ্ছতা ও মেধার ভিত্তিতেই নিয়োগ করা হবে। এসসি, এসটি, ওবিসি ও ইডব্লিউএস সংরক্ষণের পাশাপাশি অগ্নিবীরদের জন্যও সংরক্ষণের নিয়ম চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। কোনও রকম স্বজনপোষণ বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই বেকারত্ব দূরীকরণে তৎপর নতুন সরকার। ক্ষমতায় আসার কয়েক মাসের মধ্যেই পুলিশ কনস্টেবল-সহ একাধিক সরকারি পদে নিয়োগপত্র নিজের হাতে তুলে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। চলতি অর্থবর্ষে এক লক্ষ কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোচ্ছে রাজ্য সরকার। সেই আবহে লালবাজারে মুখ্যমন্ত্রীর আজকের ঘোষণা রাজ্যে দীর্ঘদিনের নিয়োগ-খরা কাটানোর ক্ষেত্রে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।


