Bengal Liberty : মহালয়ার দিন রাজ্য পুলিশের পরিকাঠামো, নিয়োগ ও জরুরি পরিষেবা ঢেলে সাজানোর বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, আগের জমানায় পুলিশি ব্যবস্থা কার্যত সিভিক ভলান্টিয়ার-নির্ভর হয়ে পড়েছিল। আরও বলেন, নিয়োগে ছিল আইনি জটিলতা, আর থানাগুলির পরিকাঠামোর অবস্থাও ছিল বেহাল। সেই ব্যবস্থার বদল ঘটিয়ে পুলিশকে আরও শক্তিশালী করার দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে মহালয়ার পুণ্য তিথিতে ১১২ জরুরি পরিষেবা চালু করে পুজোর আগে প্রায় ১১ হাজার কনস্টেবল নিয়োগের বার্তা দেন। সাথে ৪৫০টি গাড়ি ও ৪৫০টি মোটরবাইক পুলিশের হাতে তুলে দিলেন। সরকারি কর্মীদের অক্টোবরের অগ্রিম বেতনের সঙ্গে ২০ শতাংশ ডিএ দেওয়ার ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী।
একের পর এক জট কাটাতে মরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী
শনিবার ব্রিগেডে রাজ্য পুলিশের অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে পূর্বতন সরকারের পুলিশি ব্যবস্থাকে নিশানা করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, আগের সরকারের আমলে পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড না থাকায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সমস্যা ছিল। ওবিসি সংরক্ষণ সংক্রান্ত আইনি জটিলতার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, “ওবিসি রিজার্ভেশনের পদ্ধতিই ভুল ছিল। আমরা ঠিক করেছি।” তাঁর বক্তব্য, আইনি বাধা কাটিয়ে পুজোর আগেই ১১ হাজারের বেশি কনস্টেবল নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। আগামী শুক্রবার নিজের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
থানার বেহাল দশা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি
পুলিশের পরিকাঠামোর বেহাল দশা বোঝাতে ওয়াটগঞ্জ ও একবালপুর থানায় নিজের পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “মনে হবে ১০০ বছরের পুরোনো বাড়ি, চেয়ার-টেবিল, অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থারও সময় পেরিয়ে গিয়েছে।” এরপরই তাঁর হুঁশিয়ারি, “এসব পাল্টাতে হবে, পাল্টে যাবে।” জরুরি পরিষেবা আরও দ্রুত পৌঁছে দিতে আগামী এক বছরের মধ্যে প্রত্যেক থানায় চারটি করে গাড়ি ও চারটি মোটরবাইক দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান শুভেন্দু। গাড়ি চালানোর জন্য ১,৫০০ চালক নিয়োগের কথাও জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি মহালয়ার দিনই সরকারি কর্মীদের সুখবর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ষষ্ঠীর মধ্যে ২০ শতাংশ ডিএ-সহ অক্টোবরের অগ্রিম বেতন পেয়ে যাবেন।”
আরও খবর

পুলিশের গায়ে হাত দিলে হবে করুণ পরিণতি
আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নেও পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, আগে পুলিশকে কার্যত হাত-পা বেঁধে কাজ করতে হত। পুলিশকর্মীদের উপর হামলার প্রসঙ্গে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “কোনও পুলিশের গায়ে হাত দিলে তার অবস্থা খারাপ হবে।” আসানসোলে পুলিশ ফাঁড়ি ভাঙচুর এবং পার্কস্ট্রিটের ঘটনার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। তারপরই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “পুলিশের গায়ে কেউ যদি হাত দেয় তার অবস্থা খারাপ হবে।”
রাজ্য পুলিশের দক্ষতার উদাহরণ দিতে বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ওই ঘটনায় টাকা, গয়না-সহ প্রায় ২২০ কোটি টাকার সম্পত্তি উদ্ধার হয়েছিল। এরপরই প্রশ্ন তোলেন, “ইডি-সিবিআই-এনআইএ কেন লাগবে?” তাঁর বক্তব্য, প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও কর্মী পেলে রাজ্য পুলিশও বড় অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ করতে সক্ষম। মাদক কারবার ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের বার্তা দিয়ে শুভেন্দু স্পষ্ট করেন, অপরাধের ক্ষেত্রে দল বা ধর্ম দেখে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। তাঁর কথায়, “সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে টাকা নিলে টাইট দিয়ে দেবেন। দল-ধর্ম দেখবেন না।”


