Bengal Liberty : ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের তাণ্ডবের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের এক ঘূর্ণাবর্তের আশঙ্কায় উদ্বেগ বাড়ছে দেশের পূর্ব উপকূলে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ ক্রমশ শক্তি বাড়িয়ে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে। ফলে নতুন করে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কায় কড়া সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন।
ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের (IMD) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ আগামী ২ নভেম্বর রাত থেকে ৩ নভেম্বরের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশের দক্ষিণ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে। নেল্লোর ও নারসাপুরের মধ্যবর্তী উপকূলবর্তী এলাকায় এর স্থলভাগে প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার, এমনকি দমকা হাওয়ার আকারে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ অক্টোবর ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। সেই ঝড়ের পরবর্তী বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি, ঘরবাড়ি নষ্ট হওয়া এবং কৃষিজমি প্লাবিত হওয়ার ঘটনা সামনে আসে। বর্তমানে যেখানে উদ্ধার ও পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে, ঠিক তখনই ‘মুরাসু’র আগমন নতুন করে প্রশাসনের চিন্তা বাড়াল। ঘূর্ণিঝড় মুরাসুর প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
আরও খবর
পাশাপাশি, তামিলনাড়ু, ওড়িশা ও তেলেঙ্গানা-সহ একাধিক রাজ্যের বিভিন্ন অংশেও বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে প্রশাসন। উপকূলবর্তী ও নিচু এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে সম্পূর্ণ নিষেধ করা হয়েছে। সবমিলিয়ে, অর্ণবের ক্ষত শুকিয়ে ওঠার আগেই ‘মুরাসু’র আগমন দক্ষিণ ভারতের উপকূলবর্তী অঞ্চলে নতুন করে ত্রাস সৃষ্টি করেছে। এখন সকলের নজর ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ ও তার সম্ভাব্য প্রভাবের দিকেই।


