Bengal Liberty:
ফারাক্কার কাছে রেললাইনে বারবার ধস নামার জেরে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রেল যোগাযোগ কার্যত বিপর্যস্ত। বুধবার রাতে প্রথমে প্রায় ১০ মিটার অংশে ধস নজরে আসে। পরে মেরামতির কাজ শুরু হলে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত অংশের পরিমাণ প্রায় ৮০ মিটার। রেললাইনের নীচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় একই জায়গায় বারবার ধস নামছে। ফলে মেরামতির কাজেও বারবার বাধা তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শনিবারও বাতিল একাধিক ট্রেন।

ভোগান্তিতে যাত্রীরা (North Bengal Rail Connectivity)
রেল দফতরের কর্মীরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালালেও বৃহস্পতিবার পেরিয়ে শুক্রবারেও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি ট্রেন চলাচল। একাধিক ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকে রয়েছে। কলকাতা ও উত্তরবঙ্গের মধ্যে রেল যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় চরম সমস্যায় পড়েছেন যাত্রীরা।
আরও খবর

পূর্ব রেল সূত্রে খবর, শুক্রবার বাতিল হওয়া পরিষেবাগুলির পাশাপাশি শনিবারও একাধিক ট্রেন বাতিল রাখা হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর বাতিলের তালিকায় রয়েছে ১২৩৪৪ হলদিবাড়ি-শিয়ালদহ দার্জিলিং মেল, ১৩১৯০ বালুরঘাট-শিয়ালদহ এক্সপ্রেস, ১২৩৭৮ নিউ আলিপুরদুয়ার-শিয়ালদহ পদাতিক এক্সপ্রেস, ১৩০৩৪ কাটিহার-হাওড়া এক্সপ্রেস, ১৩০৫৪ রাধিকাপুর-হাওড়া কুলিক এক্সপ্রেস, ১৩১৬২ বালুরঘাট-কলকাতা তেভাগা এক্সপ্রেস এবং ১৩১৪২ নিউ আলিপুরদুয়ার-শিয়ালদহ তিস্তা তোর্সা এক্সপ্রেস।

এছাড়াও বাতিল রয়েছে ১৩১১৬ জলপাইগুড়ি রোড-শিয়ালদহ হামসফর এক্সপ্রেস, ১৩১৪৬ রাধিকাপুর-কলকাতা এক্সপ্রেস, ১৩১৬০ যোগবাণী-কলকাতা এক্সপ্রেস, ০৮০৪৮ নাহারলাগুন-সাঁতরাগাছি স্পেশাল, ১২৩৪৬ গুয়াহাটি-হাওড়া সরাইঘাট এক্সপ্রেস, ১৩১৪৮ বামনহাট-শিয়ালদহ উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস, ১৭১৫০ আলিপুরদুয়ার-শিয়ালদহ কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস, ১৩০১২ মালদহ টাউন-হাওড়া ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস এবং ১৩১৬৪ সহরসা-শিয়ালদহ হাটে বাজারে এক্সপ্রেস।

পূর্ব রেল সূত্রে খবর (North Bengal Rail Connectivity)
তবে পূর্ব রেলের দাবি, শুক্রবার রাতের মধ্যেই পুনর্গঠনের কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। সেই কাজ সফল হলে শনিবার সকাল থেকে ধাপে ধাপে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু ততক্ষণ পর্যন্ত রেলযাত্রীদের দুর্ভোগ অব্যাহত।

রেল পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় বিকল্প হিসেবে পরিবহণ দফতরও একাধিক অতিরিক্ত সরকারি বাস চালু করেছে। কলকাতা-শিলিগুড়ি এবং অন্যান্য উত্তরবঙ্গের রুটে বাস বাড়ানো হয়েছে। তবে বেসরকারি বাসে অতিরিক্ত ভাড়া এবং টিকিটের কালোবাজারির অভিযোগও সামনে এসেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের তরফে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ (North Bengal Rail Connectivity)
এদিকে বিভিন্ন স্টেশনে আটকে থাকা ট্রেনের যাত্রীদের জন্য খাবার, পানীয় জল এবং বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় আধিকারিকদের তৎপর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর তরফে। ফলে রেল পরিষেবা দ্রুত স্বাভাবিক করার পাশাপাশি আটকে পড়া যাত্রীদের দুর্ভোগ কমানোও এখন প্রশাসনের বড় চ্যালেঞ্জ।

আরও পড়ুনঃ নাম সংকীর্তনে মাতলেন মুখ্যমন্ত্রী! জন্মাষ্টমীর মহোৎসবে ইস্কনে কৃষ্ণ সেবায় শুভেন্দু


