নিজের সার্ভিস রিভলবার থেকে মাথায় গুলি লেগে মৃত্যু হল কাঁকসা ট্রাফিক গার্ডের এক পুলিশকর্মীর। মঙ্গলবার রাতে পানাগড় বাইপাসে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে একটি লরির আড়াল থেকে তাঁর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। মৃতের নাম সঞ্জয় জানা। প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান, নিজের সার্ভিস রিভলবার থেকে মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন তিনি। যদিও কী কারণে এই ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। মৃত্যুর নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্যান্য দিনের মতো মঙ্গলবার রাতেও পানাগড় বাইপাসে ডিউটিতে ছিলেন সঞ্জয়। তাঁর সঙ্গে আরও কয়েক জন পুলিশকর্মী দায়িত্বে ছিলেন। জাতীয় সড়কের উপরে দাঁড়িয়ে থাকা লরিগুলিকে সরানোর কাজ করছিলেন তাঁরা। সেই সময় কোনও এক মুহূর্তে সহকর্মীদের থেকে কিছুটা দূরে চলে যান সঞ্জয়। বেশ কিছুক্ষণ তাঁকে দেখতে না পেয়ে সহকর্মীরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তখনই একটি লরির আড়ালে তাঁকে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা।
আরও খবর
কাছে গিয়ে সহকর্মীরা দেখেন, সঞ্জয়ের মাথায় গুলির আঘাত রয়েছে। চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে রক্ত। তাঁর পাশেই সার্ভিস রিভলবারটি পড়ে ছিল বলে জানা গিয়েছে। এমন দৃশ্য দেখে কার্যত হতবাক হয়ে যান অন্য পুলিশকর্মীরা। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছনোর পর চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
কর্মরত অবস্থায় এক পুলিশকর্মীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পুলিশ মহলে। কী কারণে সঞ্জয় এমন চরম সিদ্ধান্ত নিলেন, তা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। ব্যক্তিগত কোনও সমস্যা, পারিবারিক অশান্তি কিংবা কর্মক্ষেত্রের কোনও চাপ তাঁকে এই পথে ঠেলে দিয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত পুলিশের তরফে নিশ্চিত ভাবে কিছু জানানো হয়নি।
বুধবার সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছন পুলিশ আধিকারিকেরা। গোটা এলাকা ঘুরে দেখার পাশাপাশি বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ফরেনসিক দলকেও ডাকা হয়েছে। সার্ভিস রিভলবার, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি এবং অন্যান্য পারিপার্শ্বিক তথ্য খতিয়ে দেখে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। সহকর্মীদের সঙ্গেও কথা বলা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ফরেনসিক পরীক্ষার ফল সামনে এলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা মিলবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।


