Bengal Liberty: তৃণমূল ছেড়ে NCPI-তে যোগ দেওয়া ২০ সাংসদের অবস্থা খানিকটা ‘শাঁখের করাত’-এর মতো। সাংসদ পদ ‘না গিলতে পারছেন, না ফেলতে পারছেন’। কাটল না জটিলতা। তাঁদের সাংসদ পদ কেন বাতিল হবে না? সেই প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সময়সীমা শেষ হল বৃহস্পতিবার। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব দিতে পারলেন না তাঁরা। বরং আরও দু’সপ্তাহ সময় চেয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি পাঠালেন NCPI-এর ২০ সাংসদ। ফলে তাঁদের সাংসদ পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত আরও পিছিয়ে গেল কি না, সেই উত্তর দেবে সময়। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার কলকাতায় বৈঠকে বসছেন NCPI-এর ২০ সাংসদ। সেই বৈঠকেই নির্ধারিত হবে পরবর্তী পরিকল্পনা। অন্যদিকে, বিষয়টি এখন লোকসভার স্পিকারের পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টেও বিচারাধীন।

৪ বার সময় চেয়েছেন ২০ সাংসদ
বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে হারের পরই তৃণমূলের সংসদীয় দলে বড় ভাঙন দেখা দেয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছেড়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ২০ জন সাংসদ একযোগে NCPI-তে যোগ দেন। ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়ায় যোগ দেওয়ার পর তাঁরা এনডিএ সরকারকে সমর্থনের কথা জানান। এরপর সংসদে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়দের আসনও অদলবদল হয়। তবে এখনও NCPI-এর সাংসদ হিসেবে ওই ২০ জন আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাননি।
অন্যদিকে, এই ২০ সাংসদের পদ খারিজের দাবিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আবেদন করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত হয়েই ওই সাংসদরা অন্য দলে যোগ দিয়েছেন। তাই সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী তাঁদের সাংসদ পদ খারিজ হওয়া উচিত। পাল্টা NCPI সাংসদদের দাবি, এটি বৈধ রাজনৈতিক সংযুক্তি। তাঁদের ক্ষেত্রে দলত্যাগবিরোধী আইন কার্যকর হবে না।
আরও খবর
এই অবস্থায় সাংসদ পদ বাতিলের দাবি নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনের ভিত্তিতে ২০ সাংসদের কাছে নির্দিষ্ট কিছু প্রশ্ন রেখেছেন স্পিকার। সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে আরও সময় প্রয়োজন বলে দাবি তাঁদের। এর আগে তিন বার স্পিকারের কাছে সময় চেয়েছিলেন তাঁরা। পরে স্পিকার তাঁদের ৮ অক্টোবর পর্যন্ত নিজেদের অবস্থান জানানোর সময় দেন। সেই সময়সীমার শেষ দিনেই ফের দু’সপ্তাহ সময় চেয়ে চিঠি দিলেন NCPI সাংসদরা।

কলকাতায় বৈঠকে ২০ সাংসদ
এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার কলকাতায় বৈঠকে বসছেন NCPI-এর ২০ সাংসদ। একাধিক সাংসদ ইতিমধ্যেই কলকাতায় পৌঁছেছেন। সূত্রের খবর, আগামী দিনের রণকৌশল ঠিক করতেই এই বৈঠক। স্পিকারের কাছে কী ভাবে জবাব দেওয়া হবে, সুপ্রিম কোর্টে মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে এবং সাংসদ পদ নিয়ে দলের অবস্থান কী থাকবে—সব কিছু নিয়েই বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা। বৈঠক শেষেই নির্ধারিত হবে ২০ সাংসদের পরবর্তী পদক্ষেপ।
উল্লেখ্য, NCPI-এর ২০ সাংসদকে নিয়ে মামলা গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টেও। গত মাসে এই মামলায় সব পক্ষকে নোটিস জারি করে শীর্ষ আদালত। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ ২০ জন দলবদলু সাংসদকেও নোটিস দেওয়া হয়। একই সঙ্গে লোকসভার স্পিকারের কাছেও জানতে চাওয়া হয়, এই সাংসদদের নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া কত দূর এগিয়েছে। মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তি চায় সুপ্রিম কোর্ট। ফলে এক দিকে স্পিকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা, অন্য দিকে চলছে শীর্ষ আদালতের শুনানি। এই পরিস্থিতিতে স্পিকার সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়দের ফের দু’সপ্তাহ সময় দেন কি না, এখন সেটাই দেখার।


