Bengal Liberty
গ্রেফতারির ৩৫ দিনের মধ্যেই প্রাক্তন কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ১৫০ পাতার চার্জশিট পেশ করল তদন্তকারী দল (Debraj Chakraborty)। বৃহস্পতিবার বারাসত আদালতে জমা পড়েছে এই চার্জশিট। যেখানে তোলাবাজি, সিন্ডিকেট পরিচালনা এবং বেআইনি আর্থিক লেনদেন সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে। রাজারহাট গোপালপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামী দেবরাজের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এর ১১১ নম্বর ধারাসহ একাধিক কঠোর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। চার্জশিটে মোট ১১ জন সাক্ষীর বয়ান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

দ্রুত বিচার চায় রাজ্য Debraj Chakraborty
চার্জশিট জমা দেওয়ার প র সরকার পক্ষের আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় জানান, তদন্তে দেবরাজের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট চক্র পরিচালনা এবং অবৈধ অর্থ আদায়ের যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ মিলেছে। তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হওয়ায় এবার দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার আবেদন জানানো হয়েছে আদালতের কাছে। তদন্তকারী সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটও পেশ করা হতে পারে।

১০০ কোটির সম্পত্তি নিয়ে তদন্ত
তদন্তে উঠে এসেছে, আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পত্তি এবং বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরেই পুলিশের নজরে আসেন দেবরাজ চক্রবর্তী ও তাঁর স্ত্রী অদিতি মুন্সি। অভিযোগ, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠদের নামে প্রায় ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি হস্তান্তর করা হয়েছিল। এছাড়াও নির্বাচনী হলফনামায় সম্পদের তথ্য গোপন, আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পত্তি এবং অর্থপাচারের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরও খবর

হাইকোর্টে স্বস্তি মেলেনি, পুরুলিয়া থেকে গ্রেফতার
গ্রেফতার এড়াতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেও দেবরাজ চক্রবর্তীর আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত। যদিও শিশুসন্তানের বিষয়টি বিবেচনা করে অদিতি মুন্সিকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল। আইনি সুরক্ষা হারানোর পর দেবরাজ আত্মগোপন করেন। পরে গত ১ জুলাই বিধাননগর পুলিশ ও রাজ্য এসটিএফের যৌথ অভিযানে পুরুলিয়া থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকে তিনি জেল হেফাজতেই রয়েছেন। বৃহস্পতিবার বারাসত আদালতে তাঁর জামিনের আবেদনও খারিজ হয়েছে।


