Bengal Liberty
তারাপীঠে মন্দিরের কাছেই একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হল অন্তত ৮ জন পুণ্যার্থীর (Mamata Banerjee)। ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন বেশ কয়েক জন। তাঁদের উদ্ধার করে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার ভোরের এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ঘটনা প্রসঙ্গে সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করে শোক প্রকাশ করলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মমতা ব্যানার্জী সমাজ মাধ্যমে আগত পুণ্যার্থীদের উদ্দেশ্যে শোক প্রকাশ করে বলেছেন, ” তারাপীঠে আকস্মিক ও মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আমি শোকস্তব্ধ। এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করছি। যাঁরা আপনজন হারিয়ে নিঃস্ব, তাঁদের এই দুঃসহ শোক সহ্য করার শক্তি ঈশ্বর প্রদান করুন। একইসঙ্গে, যাঁরা আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তাঁদের দ্রুত ও পরিপূর্ণ সুস্থতা প্রার্থনা করছি ।”

আরও খবর
ঘটনার প্রসঙ্গ
তারাপীঠ থানার অদূরে পুকুরের ধারে অবস্থিত পাঁচতলা হোটেল ‘বিদেশিনী’। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, সোমবার ভোরে হোটেলের নীচতলায় আচমকাই আগুন লাগে। প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে হোটেলের বিভিন্ন অংশে। আগুন লাগার সময় অধিকাংশ আবাসিকই ঘুমোচ্ছিলেন। হোটেলে শিশু-সহ বহু পুণ্যার্থী ছিলেন। আগুনের সঙ্গে দ্রুত ঘন কালো ধোঁয়ায় ভরে যায় হোটেলের ভিতর। পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই আগুন অনেকটা ছড়িয়ে পড়ায় বেশ কয়েক জন ঘরের মধ্যেই আটকে পড়েন। শুরু হয় চরম হুড়োহুড়ি।

হোটেলটি থানার কাছাকাছি হওয়ায় দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় তারাপীঠ থানার পুলিশ। পরে রামপুরহাট থানার পুলিশও উদ্ধারকাজে যোগ দেয়। খবর পেয়ে দমকলের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। বেশ কিছুক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

তবে ততক্ষণে হোটেলের নীচতলার বিস্তীর্ণ অংশ পুড়ে যায়। আগুনে দগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৮ জনের বলে জানা গিয়েছে। কয়েক জন অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন, আবার অনেকে ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এখনও উদ্ধারকাজ চলছে। কী ভাবে আগুন লাগল এবং হোটেলে অগ্নিনিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া থেকে পরিবার নিয়ে তারাপীঠে পুজো দিতে গিয়েছিলেন তপনজ্যোতি মণ্ডল। ‘বিদেশিনী’ হোটেলেই উঠেছিলেন। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘‘ভোর ৪টের সময় বাইরে খুব আওয়াজ হচ্ছিল। রিসেপশনের ডান দিকে ২ নম্বর ঘরে আমরা ছিলাম। মা আর বোন ছিল ১ নম্বর ঘরে। দরজা খুলে বেরোতে গিয়ে দেখি আগুন ঢুকে আসছে। আমরা দরজা বন্ধ করে দিই। ঘরে কোনও জানলা ছিল না। শৌচালয়ে গিয়ে আমরা সেখানকার উপরের ফাঁকা জায়গা দিয়ে বেরোনোর চেষ্টা করছিলাম। প্রায় ৪৫ মিনিট আটকে ছিলাম আমি, আমার স্ত্রী আর দুই সন্তান। তারাপীঠ থানায় বারংবার ফোন করেছি। ওঁরা এসে দরজা ভেঙে আমাদের উদ্ধার করেন। আমার মা এখনও সংজ্ঞাহীন। বোনেরও চোট লেগেছে।’’ প্রশাসনের তরফ থেকে এখনও উদ্ধারকার্য চালান হচ্ছে। এখন নজর, পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়


