Bengal Liberty : মেদিনীপুর পৌরসভায় বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনকে কেন্দ্র করে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করলেন ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ সাইফুল্লাহ (Midnapore)। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে বেআইনিভাবে বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে অভিযোগ জানিয়েও কোনও সুরাহা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। এই লড়াই ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক নয়, বরং আইনের শাসন ও জনস্বার্থ রক্ষার জন্য বলেই দাবি কাউন্সিলরের (Midnapore)।

অনলাইন ব্যবস্থার বদলে অফলাইনে অনুমোদনের অভিযোগ (Midnapore)
মোঃ সাইফুল্লাহর অভিযোগ, ২০২১ সালের ১৬ আগস্ট থেকে রাজ্য সরকার SWS-OBPAS-এর মাধ্যমে অনলাইনে বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন বাধ্যতামূলক করলেও মেদিনীপুর পৌরসভায় সেই নিয়ম মানা হয়নি। বরং দীর্ঘদিন ধরে অফলাইন পদ্ধতিতে বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন করা হয়েছে। তাঁর আরও দাবি, প্রয়োজনীয় BOC-এর পূর্বানুমোদন ছাড়াই একাধিক প্ল্যান পাশ করানো হয়েছে। কাউন্সিলরের বক্তব্য, ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর একসঙ্গে ৪১০টি বিল্ডিং প্ল্যান বোর্ড সভায় অনুমোদনের জন্য তোলা হলে তিনি প্রকাশ্যে তার বিরোধিতা করেন এবং লিখিত আপত্তিও জমা দেন। কিন্তু সেই আপত্তির বিষয়টি কার্যবিবরণীতে যথাযথভাবে উল্লেখ করা হয়নি বলেও অভিযোগ তাঁর। পরে ২০২৬ সালের ৯ জুন আরও ৪০৫টি বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হলে তাঁর আপত্তির জেরে তা আটকে যায় বলে দাবি করেন তিনি।

হাইকোর্টে বিস্ফোরক অভিযোগ (Midnapore)
মোঃ সাইফুল্লাহর অভিযোগ, যেসব বিল্ডিংয়ের প্ল্যান পরে অনুমোদনের চেষ্টা করা হয়েছিল, তার অনেকগুলিই আগেই ভুয়ো প্ল্যানের ভিত্তিতে নির্মাণ হয়ে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, ওই সব নির্মাণের জন্য ভুয়ো কমপ্লেশন সার্টিফিকেট (Completion Certificate)-ও দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর দাবি। তাঁর অভিযোগ, কাউন্সিলরদের মতামত বা আইনসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে একটি ভুয়ো নথির ভিত্তিতে বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন করা হয়েছে। এর ফলে শুধু কাউন্সিলররাই নন, প্ল্যান নেওয়া ব্যক্তিরা, ফ্ল্যাট বা বিল্ডিং ক্রেতারা, এমনকি সেই সম্পত্তির ভিত্তিতে ঋণ দেওয়া ব্যাংকগুলিও প্রতারিত হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
আরও খবর
কাউন্সিলর স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই মামলা কোনও ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল নয়। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের স্বার্থ রক্ষা এবং পৌর প্রশাসনে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁর দাবি, হাইকোর্টের উপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং আদালতের হস্তক্ষেপে প্রকৃত সত্য সামনে আসবে। পাশাপাশি, পৌরসভার চেয়ারম্যান ও এক্সিকিউটিভ অফিসারের বিরুদ্ধে কয়েকশো কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগেরও বিচার হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন :
https://bengalliberty.com/2026/08/04/arup-biswas-3/


