Iran US tension
Bengal Liberty, ৯ ফেব্রুয়ারি:
ওমানে আমেরিকার সঙ্গে সাম্প্রতিক পরোক্ষ বৈঠকের পর ফের মেজাজে ইরান (Iran US tension) । গতকাল, রবিবার তেহরানে একটি ফোরামে বক্তব্য রাখার সময় ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য ইরান প্রস্তুত হলেও তারা কোনও চাপের কাছে মাথা নত করবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাঠানো রণতরী ইরানকে ভয় দেখাতে পারবে না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি (Iran US tension) ।

প্রধান বার্তা ও হুঙ্কার(Iran US tension)-
আরাঘচি বলেন, “শত্রুরা আমাদের পারমাণবিক বোমাকে ভয় পায়, কিন্তু আমরা কোনও বোমা বানাচ্ছি না। আমাদের আসল ‘পারমাণবিক বোমা’ হল বড় শক্তিদের সোজাসুজি ‘না’ বলার ক্ষমতা”। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, নিজেদের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার থেকে ইরান একচুলও সরবে না। এই অধিকারটি কোনওভাবেই আলোচনার বিষয় হতে পারে না। পারস্য উপসাগরে মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’-এর উপস্থিতিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “এই ধরনের সামরিক মোতায়েন ইরানকে ভয় দেখাতে পারবে না”।
ওমানে আলোচনার নির্যাস-
গত ৬ ফেব্রুয়ারি ওমানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়েছে। সেখানে মার্কিন প্রতিনিধি হিসেবে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ উপস্থিত ছিলেন। আরাঘচি জানিয়েছেন যে, এই আলোচনা শুধুমাত্র পারমাণবিক ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ থাকবে এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে কোনও কথা হবে না।

অবিশ্বাসের আবহে কূটনীতি!(Iran US tension)
ইরানের বিদেশমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন যে, আমেরিকার কথায় ও কাজে অনেক বৈপরীত্য রয়েছে। একদিকে তারা আলোচনার কথা বলছে, অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক হামলার ভয় দেখাচ্ছে। আরাঘচি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, যদি আমেরিকা ইরানের ওপর ফের হামলা চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা সমস্ত মার্কিন ঘাঁটিকে পাল্টা লক্ষ্যবস্তু করা হবে। আব্বাস জানিয়েছেন, সমঝোতা-বৈঠক এবং মার্কিন সেনার আনাগোনা নিয়ে চিন এবং রাশিয়ার সঙ্গে তেহরানের কথাবার্তা চলছে। এই দুই দেশকে ইরানের ‘কৌশলগত বন্ধু’ বলেও উল্লেখ করেছেন বিদেশমন্ত্রী।
প্রেসিডেন্টের বার্তা-
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই আলোচনাকে ‘এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া’ বলে বর্ণনা করেছেন। তবে আরাঘচির এদিনের বক্তব্য বুঝিয়ে দিয়েছে যে, তেহরান “চোখ খোলা রেখে” এবং অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে দর কষাকষি করছে।


