Hargobinda Das Murder Case
দিয়া জানা, Bengal Liberty :
২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাস (Hargobinda Das Murder Case)। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় ওয়াকফ সংক্রান্ত বিবাদের জেরে হরো গোবিন্দ দাস এবং তার ছেলে চন্দন দাসকে কুপিয়ে নিশংসভাবে খুন করা হয়। প্রথম থেকেই পরিবারের অভিযোগ ছিল হিন্দু হওয়ায় হিংস্র মৌলবাদীদের হাতে খুন হতে হয়েছে পরিবারের দুজনকে। মাস পেরিয়ে বছর, ১৩ জনকে যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণা করলেও খুনিদের চোখের সামনে ঘোরাফেরা করতে দেখে আতঙ্কিত চন্দন দাসের স্ত্রী।

আজও আতঙ্কে দিন কাটছে পরিবারের (Hargobinda Das Murder Case)
সদ্য হারিয়েছেন স্বামীকে। স্বামীর পাশাপাশি কোল খালি হয়েছে মায়ের। চোখের জলে এখনো ভয়াবহ স্মৃতি বুকে নিয়ে বেঁচে রয়েছে হরো গোবিন্দ দাসের স্ত্রী ওরফে চন্দন দাসের মা। তাঁর কথায়,’ দিনের আলোতেই চোখের সামনেই ওরা টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যায় স্বামী ও ছেলেকে। আমরা মেয়েমানুষ বাড়ি থেকে ভয়ে বেরোতে পারিনি। নাতিকে আগলে রেখে বাড়ির এক কোণে প্রাণ বাঁচিয়েছিলাম। বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তায় টেনে হিচড়ে কিছুটা নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ছেলেকে এবং স্বামীকে। তারপর হিংস্র মানুষরূপী জানোয়ারদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি কেউই। খাসি কাটার মত কুপিয়ে ফেলা হয়েছিল স্বামী ও ছেলের দেহ।’ (Hargobinda Das Murder Case)

কী ঘটেছিল ২৫ সালের ১২ই এপ্রিল?(Hargobinda Das Murder Case)
সামসেরগঞ্জের জাফরাবাদ গ্রামে পিতা হরগোবিন্দ দাস ও তাঁর পুত্র চন্দন দাসকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। ২০২৫ সালের এপ্রিলে ওয়াকফ সংশোধনী বিলের প্রতিবাদ ঘিরে মুর্শিদাবাদের একাধিক এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই অশান্তির আবহেই ১২ এপ্রিল জাফরাবাদ গ্রামে ঘটে এই জোড়া খুনের ঘটনা। প্রথমে বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালানো হয় তারপরই নৃশংসভাবে খুন করা হয় পিতা – পুত্রকে। ঘটনার পরই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

বেনজির সাজা ঘোষণা (Hargobinda Das Murder Case)
শাসকদলকে আক্রমণ করে সরব হয় বিজেপি, পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও দাস পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এলাকায় যান। যদিও সরকারি আর্থিক সাহায্য নিতে অস্বীকার করে পরিবারটি। এই জোড়া খুনের তদন্তে গঠন করা হয় বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। তদন্তে ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ৯০০ পাতার বিস্তারিত চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। সিটের দাবি, খুনটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল না। গ্রামে চলা হিংসার সময় বাধা দেওয়ায় পিতা-পুত্রকে নিশানা করা হয়। পরদিন তাঁদের বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালিয়ে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। খুন, গণপিটুনি ও হিংসা ছড়ানোর অভিযোগে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে।
Suvendu Adhikari: “বাংলাদেশী হিন্দুরা থাকবে কারণ তারা শরণার্থী”@SuvenduWB @BJP4India @BJP4Bengal @MamataOfficial @AITCofficial @bengalliberty #bengalliberty #suvenduadhikari #BJP #mamatabanerjee #TMC #westbengalelection #election2026 #SIR #SIRvoterlist pic.twitter.com/SfuZyz5qke
— Bengal Liberty (@bengalliberty1) March 1, 2026
দীর্ঘ শুনানির পর শেষ পর্যন্ত আদালত ১৩ জনকেই দোষী সাব্যস্ত করে। ২৩সে ডিসেম্বর ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাবাসের নির্দেশ দেয় জঙ্গিপুর মহকুমা আদালত। একই সঙ্গে মৃতদের পরিবারকে ১৫ লক্ষ টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছিল ওই আদালতের বিচারক।
