Full-scale war between Iran and USA
Bengal Liberty, ২ মার্চ:
পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। ইজরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতল্লাহ আলি খামেনেই নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত অস্থির হয়ে ওঠে (Iran Israel US conflict)। হামলার জেরে শুধু ইরানেই নয়, গোটা অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা, বিস্ফোরণ ও পাল্টা হামলার খবর সামনে আসছে। এ অবস্থায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সরকারি সূত্রের দাবি-প্রতিদাবিতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

কুয়েতে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবি (Iran Israel US conflict)
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সোমবার দাবি করেছে, কুয়েতের আকাশে একটি মার্কিন F-15 Eagle যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে ওই সংবাদ সংস্থা একটি ভিডিও ক্লিপও প্রকাশ করেছে, যেখানে ওই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে (Iran Israel US conflict)।

অন্যদিকে, মার্কিন সেন্টকম জানিয়েছে যে ইরান এই অঞ্চলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ইরাকের এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে আবুধাবি ও দুবাইয়ে নতুন বিস্ফোরণের খবরও সামনে এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কুয়েতে মার্কিন দূতাবাসের কাছাকাছি এলাকা থেকেও ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
তবে কুয়েত সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সোমবার ভোরে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী কয়েকটি শত্রুপক্ষের আকাশযান শনাক্ত করে গুলি করে ভূপাতিত করেছে এবং দেশের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে তারা পূর্ণ প্রস্তুতিতে রয়েছে। একই সঙ্গে তারা জানায়, এই অভিযানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
US F-15 Fighter Jet Downed in Kuwait
According to local sources, a US F-15 fighter jet was shot down in the skies above Kuwait earlier on Monday morning. pic.twitter.com/UIyTkZllEX
— IRNA News Agency ☫ (@IrnaEnglish) March 2, 2026
ইরানে অন্তর্বর্তী বৈঠক, হামলায় ২০০ এর বেশি নিহতের দাবি (Iran Israel US conflict)
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসবে না। অন্যদিকে চলমান সংঘাতের মধ্যেই ইরানে অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদের দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইজরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান—যাকে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি/রোরিং লায়ন’ বলা হচ্ছে, তার জেরে খামেনেই সহ একাধিক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পরই এই অন্তর্বর্তী পরিষদ গঠন করা হয়। নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত দেশের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবেন অন্তর্বর্তী পরিষদ। এতে রয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী দেশটির ২৪টি প্রদেশে হওয়া হামলায় অন্তত ২০১ জন নিহত হয়েছেন। ফলে সংঘাতের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে। এদিকে হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জনগণের উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে সরকার পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন বলেও জানা গেছে।
আরও পড়ুন :
