Trinamool controversy
Bengal Liberty, কলকাতা :
ইট ছুড়লে পাটকেল খেতে হবে—এই প্রবচনটি যেন সম্পূর্ণভাবে ভুলে গিয়েছিল তৃণমূল (Trinamool controversy)। এখন আবার তা খুব স্পষ্টভাবেই মনে পড়ছে রাজ্যের শাসক দলের। গত শনিবারের ঘটনাকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে এই বিতর্ক।

ঘটনার সূত্রপাত Trinamool controversy
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপাদি মুর্মু আন্তর্জাতিক আদিবাসী কনফারেন্সে যোগ দিতে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে এসেছিলেন। বিধাননগরে অনুষ্ঠানটি হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু কাউকে কিছু না জানিয়েই—এমনকি রাষ্ট্রপতিকে জানানোর প্রয়োজনটুকুও মনে করেনি রাজ্য সরকার—হঠাৎ করেই অনুষ্ঠানটির স্থান বদল করে বিধাননগর থেকে বাগডোগরার গোঁসাইপুরে করে দেওয়া হয়। এতে চরম বিরক্তি প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি।
বিমানবন্দর হোক বা অনুষ্ঠানের মঞ্চ—শাসক দলের মুখ্যমন্ত্রী তো দূরের কথা, এমনকি দলের অন্য কোনো নেতাকেও সেখানে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি বা উপস্থিত থাকার প্রয়োজন মনে করা হয়নি। কারণ তৃণমূল শিবির থেকে একাধিকবার রাষ্ট্রপতিকে আক্রমণ করা হয়েছে। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় মঞ্চ থেকে দাঁড়িয়ে হেড অফ দ্য স্টেটকে আক্রমণ করে বলেছিলেন
” রাষ্ট্রপতির চেয়ারকে আমরা সম্মান করি, কিন্তু তিনি মোদি বাবুর পুতুল।”

এই ভাষায় কটাক্ষ করতে শোনা গিয়েছিল তাঁকে।
নিজের চালেই মাত খেলেন মমতা :
আদিবাসী সমাজের জন্য পশ্চিমবঙ্গ, অর্থাৎ মমতা সরকারের কী কী কাজ হয়েছে তার খতিয়ান দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক করতে চেয়েছিলেন তৃণমূলের সাংসদরা। কিন্তু রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে
” প্রস্তাব বিবেচনা করে দেখা হয়েছে, কিন্তু এই মুহূর্তে সময়ের অভাবের কারণে রাষ্ট্রপতি ম্যাডাম দেখা করতে পারবেন না।”
নাছোড় বান্দা তৃণমূল :
প্রস্তাব নাকচ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ডেরেক ও ‘ব্রায়েন ও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠেছেন। উঠবেনই বা না কেন—সরাসরি মমতার নির্দেশ অনুযায়ী কাজ হয়নি। দলের নেত্রীর কাছে পয়েন্ট হারাতে রাজি নয় কোনো পক্ষই। তাই তারা আবারও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার আর্জি জানাবে বলে ঠিক করেছে।
বিজেপির অভিযোগ, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় ইচ্ছাকৃতভাবে রাষ্ট্রপতিকে অপমান করেছেন। প্রোটোকল ভেঙে তিনি নিজের ইচ্ছামতো কাজ করেছেন। আদিবাসী সমাজ কখনোই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমা করবে না। এর প্রতিফলন ভোটবাক্সে তিনি হাড়ে হাড়ে টের পাবেন। রাষ্ট্রপতির সময়ের অভাবের কারণেই তিনি দেখা করতে পারেননি, কিন্তু এই ছোট বিষয়টিকে রাজনীতির মোড়ক দিচ্ছেন তিনি ও তাঁর দল।”
পরিষ্কারভাবে বলা যায়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সৌজন্যের কথা বললেও কোনোদিন সেই নিয়ম নিজে পালন করেননি। উল্টে দোষ করে অন্যের নামে দায় চাপানোর অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এবার দেখার এই সংঘাত আর কত নতুন মোড় নেয়। রাষ্ট্রপতিকে অপমানের বিষয়টি ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা খুব শীঘ্রই জানা যাবে।
