ED summons Pratik Jain
Bengal Liberty, ২ এপ্রিল :
এবার আইপ্যাক কর্তা প্রতীক জৈনকে দিল্লিতে তলব করল ইডির (ED summons Pratik Jain)। কয়লা কেলেঙ্কারি মামলায় তদন্তের গতি আরও বাড়াতেই প্রতীক জৈনের পাশাপশি ঋষি রাজ সিংকেও তলব ইডির। তবে ইডির এই তলবের বিরুদ্ধে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন প্রতীক জৈন ও ঋষি রাজ সিং। তাঁদের বক্তব্য, বর্তমানে তাঁরা পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ু নির্বাচনের কৌশল নির্ধারণে ব্যস্ত। সেই কারণেই তাঁরা দিল্লিতে হাজিরা না দিয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অথবা কলকাতায় জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে চান। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, কলকাতায় তদন্তের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে আইপ্যাক অফিসে ফাইল ছিনতাইয়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তারা কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ। দিল্লিতেই জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় ইডি (ED summons Pratik Jain)।

দিল্লিতে তলব,কলকাতায় জিজ্ঞাসাবাদে আপত্তি ইডির (ED summons Pratik Jain)
কয়লা কেলেঙ্কারির মামলায় আইপ্যাকের যোগ থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে ইডি। গত ৮ জানুয়ারি আইপ্যাকের অফিস এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। সেই সময় সেখানে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তারপরই নতুন নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ইডির দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে তদন্তে বাধা সৃষ্টি হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি সরানো ও সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার অভিযোগও ওঠে। এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তকারীরা মনে করছেন, কলকাতায় জিজ্ঞাসাবাদ করলে তদন্তের গোপনীয়তা বজায় রাখা কঠিন হতে পারে। সেই কারণেই প্রতীক জৈন ও ঋষি রাজ সিংকে দিল্লিতে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রতীকে এবং ঋষি রাজ সিংয়ের বক্তব্য (ED summons Pratik Jain)
তবে এই সমনের বিরুদ্ধে তাঁরা দিল্লি হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, তাঁরা বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ু নির্বাচনের কৌশল তৈরির কাজে ব্যস্ত, তাই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বা কলকাতায় জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ দেওয়া হোক। ইডি এই আবেদন খারিজ করে জানিয়েছে, ভার্চুয়াল মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদ করলে নথির গোপনীয়তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ (ED summons Pratik Jain)
উল্লেখ্য, আইপ্যাক সংক্রান্ত এই বিতর্ক গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। এই ঘটনাটি ভালো চোখে দেখেনি সুপ্রিম কোর্টও। শুনানির সময় শীর্ষ আদালত মন্তব্য করে, কোনও মুখ্যমন্ত্রীর এইভাবে তদন্ত প্রক্রিয়ার মধ্যে প্রবেশ করা ‘অনভিপ্রেত’ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা হলে তার বিচার কীভাবে হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত। ইডি সুপ্রিম কোর্টে সরাসরি অভিযোগ তোলে যে, তদন্ত চলাকালীন নথি চুরির ঘটনা ঘটেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ মুছে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, পুলিশের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে ওঠে।

