PM Modi
Bengal Liberty, Kolkata:
একবিংশ শতাব্দীর পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায় (Modi about Future of India) ভারতকে কেবল একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে নয়, বরং একটি বিশ্বশক্তি বা ‘বিশ্ববন্ধু’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বদ্ধপরিকর বর্তমান সরকার। সম্প্রতি এক উচ্চপর্যায়ের সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরতে গিয়ে স্পষ্ট করেছেন যে, ভারতকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হলে কেবল পরিকাঠামো উন্নয়ন যথেষ্ট নয়, বরং দেশের অভ্যন্তরীণ ও সামাজিক চ্যালেঞ্জগুলোর আমূল সংস্কার প্রয়োজন। জনবিন্যাশ পরিবর্তন (Demographic change), বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ, দুর্নীতি এবং পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির মতো গভীর সমস্যাগুলো উপড়ে ফেলাই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য।

ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ (Modi about Future of India)
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে ভারতের ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বা তরুণ প্রজন্মের শক্তির কথা। তবে তিনি সতর্ক করেছেন যে, অনিয়ন্ত্রিত জনবিন্যাশ পরিবর্তন দেশের সামাজিক ভারসাম্য ও সম্পদের সুষম বণ্টনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভবিষ্যতের ভারতকে শক্তিশালী করতে হলে আমাদের বর্তমান কাঠামোর ওপর বিশেষ নজর দিতে হবে।” বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় বহিরাগতদের ক্রমবর্ধমান অনুপ্রবেশ এবং তার ফলে স্থানীয় সংস্কৃতি ও নিরাপত্তায় যে প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। বহিরাগতদের এই সমস্যার সমাধান না করলে দেশের প্রকৃত নাগরিকরা তাঁদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে সরকার মনে করছে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রাম (Modi about Future of India)
ভারতের উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায় হিসেবে প্রধানমন্ত্রী চিহ্নিত করেছেন ‘ভ্রষ্টাচার’ বা দুর্নীতিকে। তাঁর মতে, দুর্নীতি কেবল অর্থের অপচয় নয়, এটি দেশের সাধারণ মানুষের অধিকার কেড়ে নেয়। ডিজিটাল ইন্ডিয়ার মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগীদের দাপট কমানো এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি জনগণের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়া (DBT) এই লড়াইয়ের একটি বড় অংশ।

পরিবারবাদ: গণতন্ত্রের অন্তরায় (Modi about Future of India)
ভারতের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ‘পরিবারবাদ’ বা বংশপরম্পরায় ক্ষমতা দখলের প্রথাকে প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্রের জন্য অভিশাপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, পরিবারবাদ প্রতিভাকে শ্বাসরোধ করে এবং যোগ্য তরুণদের রাজনীতিতে আসার পথ বন্ধ করে দেয়। যখন একটি রাজনৈতিক দল কেবল একটি পরিবারের স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত থাকে, তখন দেশের স্বার্থ গৌণ হয়ে পড়ে। একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে ভারত এমন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি চাইছে যেখানে সাধারণ ঘরের যোগ্য সন্তানরাও দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর স্বপ্ন দেখতে পারে।

ভবিষ্যৎ প্রস্তুতির রূপরেখা (Modi about Future of India)
দেশকে আগামী ২৫ বছরের ‘অমৃত কাল’-এর জন্য প্রস্তুত করতে মোদী সরকার কয়েকটি বিশেষ স্তম্ভের ওপর জোর দিচ্ছে:
প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন: সেমিকন্ডাক্টর মিশন থেকে শুরু করে মহাকাশ গবেষণা এবং এআই (AI) প্রযুক্তিতে ভারতকে স্বনির্ভর করা।
পরিকাঠামো উন্নয়ন: গতিশক্তি প্রকল্পের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা।
সামাজিক সুরক্ষা: জন ধন, উজ্জ্বলা এবং আয়ুষ্মান ভারতের মতো প্রকল্পের মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন।
প্রধানমন্ত্রীর এই কড়া অবস্থান এবং উন্নয়নের সংকল্প স্পষ্ট করে দেয় যে, তিনি কেবল বর্তমানের ভোট নয়, বরং আগামী শতকের ভারতের কথা ভাবছেন। জনতাত্ত্বিক ভারসাম্য রক্ষা, কঠোরভাবে অনুপ্রবেশ দমন, দুর্নীতির মূলে কুঠারাঘাত এবং পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির অবসান ঘটানো—এই চার মন্ত্রেই দীক্ষিত হতে চাইছে বর্তমান প্রশাসন।
हमें घुसपैठ, भ्रष्टाचार, परिवारवाद और गुलामी की मानसिकता जैसी चुनौतियों से देश को मुक्त करना ही होगा। इस दिशा में हमारे प्रयासों के पहले भी सकारात्मक नतीजे मिले हैं और आगे भी मिलने वाले हैं।#47YearsOfNationFirst pic.twitter.com/8HHoXDZKBV
— Narendra Modi (@narendramodi) April 6, 2026
দেশকে ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করার এই লড়াইয়ে তিনি দেশের ১৪০ কোটি মানুষের সহযোগিতা আহ্বান করেছেন। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে ভারত কি পারবে তার হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করতে? প্রধানমন্ত্রীর আত্মবিশ্বাস বলছে, সঠিক দিশা এবং দৃঢ় পদক্ষেপ থাকলে ‘বিকশিত ভারত’ কেবল স্বপ্ন নয়, বাস্তবের খুব কাছাকাছি।
আরও পড়ুন:
Papiya Adhikari protest : আলিপুরে মনোনয়ন ঘিরে উত্তেজনা, বিজেপির অভিযোগ- পুলিশের ‘শাসকঘেঁষা’ ভূমিকায় বাধা মিছিলে


