Nitin Nabin Bengal Visit
Bengal Liberty, kolkata:
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গের মাটিতে প্রচার জোরদার করল বিজেপি Alipurduar BJP rally। আলিপুরদুয়ারের সোনাপুরে জনসভা থেকে থেকে তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানালেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন এবং চা বাগান এলাকার পুনরুজ্জীবনের প্রতিশ্রুতি।

উত্তরবঙ্গেই ফোকাস কেন? Alipurduar BJP rally
প্রথম দফার ভোট উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে হওয়ায় এই অঞ্চলে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি। ডুয়ার্স ও চা বাগান এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলে সংগঠন আরও মজবুত করতে এবং ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতে প্রচারে জোর বাড়িয়েছে গেরুয়া শিবির।
‘১৫ বছরের শাসন বিপজ্জনক’ Alipurduar BJP rally
এদিন জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে নীতিন নবীন দাবি করেন, গত ১৫ বছরে মমতা ব্যানার্জীর নেতৃত্বে রাজ্যের উন্নয়ন থমকে গিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও ভুল নীতির ফলে পশ্চিমবঙ্গের অগ্রগতি ব্যাহত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

অনুপ্রবেশ ইস্যুতে সরব Alipurduar BJP rally
রাজ্যে বেআইনি অনুপ্রবেশের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন,সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে বেআইনি অনুপ্রবেশ বাড়ছে এবং শাসক দল তা রুখতে ব্যর্থ। এই ইস্যুতেই SIR প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, ভোটার তালিকা থেকে সন্দেহভাজন নাম বাদ পড়লে তা নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিবাদ করা হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।
নারী সুরক্ষা ও সুপ্রিম কোর্ট প্রসঙ্গ
এদিন এই সভায় তিনি নারী নিরাপত্তা ইস্যুতে সরাসরি আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যে নারীদের উপর অত্যাচারের ঘটনায় সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি। অথচ অন্য ইস্যুতে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া হয়েছে, যা রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের প্রশ্ন
তুলছে।
‘TMC মানে দুর্নীতির প্রতীক’
রাজনৈতিক ভাষণে তৃণমূল কংগ্রেসের নামের ব্যাখ্যা দিয়ে কটাক্ষ করেন নিতিন নবীন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে দুর্নীতি, তোলাবাজি এবং তুষ্টিকরণের রাজনীতি চলছে, যার প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনে।
চাকরি দুর্নীতি ও নিয়োগ বিতর্ক
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, এই কেলেঙ্কারি বৃহৎ আকারের এবং এর সঙ্গে বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত। এদিন তিনি সকলকে আশ্বাস দেন বিজেপি ক্ষমতায় এলে স্বচ্ছ নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন
রাজ্যে ‘জঙ্গলরাজ’ চলছে বলে দাবি করে নিতিন নবীন। তিনি সতর্ক করেন, নির্বাচনে ভয় দেখিয়ে ভোট আদায়ের চেষ্টা সফল হবে না। তবে আসন্ন নির্বাচনে মানুষই তার জবাব দেবে বলে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন তিনি।
নারী সংরক্ষণে চ্যালেঞ্জ
এই সভায় এসে আসন্ন সংসদীয় অধিবেশনে ৩৩ শতাংশ নারী সংরক্ষণ বিল সমর্থনের আহ্বান জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, নারী সুরক্ষার প্রতি সত্যিকারের প্রতিশ্রুতি থাকলে এই উদ্যোগকে সমর্থন করা উচিত।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি –
চা বাগান শ্রমিকদের জন্য পূর্ণ মজুরি ও উন্নত জীবনযাত্রা
উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ চা শিল্প। দীর্ঘদিন ধরেই চা বাগানের শ্রমিকদের কম মজুরি, স্বাস্থ্য পরিষেবার অভাব এবং সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ রয়েছে। এই প্রেক্ষিতে নীতিন নবীন ঘোষণা করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে শ্রমিকদের “পূর্ণ ও ন্যায্য মজুরি” নিশ্চিত করা হবে,স্বাস্থ্য পরিষেবা, বাসস্থান ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি করা হবে এবং চা বাগান এলাকাগুলিতে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন জোরদার করা হবে।
বেকার যুবকদের জন্য অতিরিক্ত সুযোগ ও ছাড়
রাজ্যে নিয়োগ দুর্নীতি এবং বেকারত্বের ইস্যু বর্তমানে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, নিয়োগে স্বচ্ছতা আনা হবে। দুর্নীতির কারণে যাঁরা চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাঁদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করা হবে এবং সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে যে যে জায়গায় পদ খালি রয়েছে সেখানে চাকরি দেওয়া হবে।
স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি
এদিন নীতিন নবীন তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হবে “ট্রান্সপারেন্সি” ও “অ্যাকাউন্টেবিলিটি”। কাটমানি ও তোলাবাজির সংস্কৃতি বন্ধ করার দাবি, সরকারি প্রকল্পে সরাসরি সুবিধা পৌঁছে দেওয়া,দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে বর্তমান শাসক দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগকেই রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে বিজেপি।
সব মিলিয়ে আলিপুরদুয়ারের এই জনসভা স্পষ্ট করে দিল, নির্বাচনের আগে বাংলার রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হতে চলেছে। একদিকে শাসক দল, অন্যদিকে বিজেপি দু’পক্ষই নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে মরিয়া। এখন দেখার, এই আক্রমণ-প্রত্যাঘাতের রাজনীতিতে শেষ পর্যন্ত কার পালে হাওয়া লাগে।

