Santanu Sinha Biswas
Bengal liberty desk,5 মে ,কলকাতা:
রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি । কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে জারি করা হলো ‘লুক আউট’ নোটিস (Santanu Sinha Biswas)। দু’টি পৃথক মামলায় বারবার তলব করা সত্ত্বেও হাজিরা না দেওয়ায় এবং দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই এই কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইডি।

কেন এই লুক আউট নোটিস? Santanu Sinha Biswas
ইডির অভিযোগ, শান্তনু সিংহ বিশ্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এর আগে পাঁচবার নোটিস পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু প্রতিবারই তিনি কোনো না কোনো অজুহাতে হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন। ইডি আধিকারিকদের ধারণা, তিনি এই মুহূর্তে গা-ঢাকা দিয়েছেন এবং সুযোগ বুঝে বিদেশে পালিয়ে যেতে পারেন। তাই দেশের সমস্ত বিমানবন্দর, বন্দর, রেলস্টেশন এবং বাসস্ট্যান্ডে তাঁর ছবি ও তথ্যসহ নোটিস পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে তিনি দেশ ছাড়তে না পারেন।
কোন কোন মামলায় নাম জড়িয়েছে তাঁর? Santanu Sinha Biswas
মূলত দু’টি বড় মামলায় এই পুলিশকর্তার নাম উঠে এসেছে। তার মধ্যে একটি হলো – সোনা পাপ্পু ও জমি দখল মামলা। বালিগঞ্জের ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে ‘সোনা পাপ্পু’-র বিরুদ্ধে জমি দখল ও তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে। এই মামলার তদন্তে নেমেই গত এপ্রিল মাসে শান্তনুর বাড়িতে হানা দিয়েছিল ইডি। তাঁর দুই ছেলেও এই তদন্তের আওতায় রয়েছেন।
আরেকটি হলো বালি পাচার মামলা। কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় একটি বালি পাচার সংক্রান্ত আর্থিক তছরুপের মামলায় শান্তনুর নাম জড়িয়েছে।
কী এই ‘লুক আউট’ নোটিস?
সহজ কথায়, এটি একটি সতর্কবার্তা। দেশের কোনো সীমান্ত বা বিমানবন্দর দিয়ে শান্তনু সিংহ বিশ্বাস পার হওয়ার চেষ্টা করলেই তাঁকে আটকে দেওয়া হবে এবং তৎক্ষণাৎ ইডি-কে খবর দেওয়া হবে।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই পুলিশকর্তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, নিয়ম বহির্ভূতভাবে শান্তনুর চাকরির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে এবং তিনি শাসক দলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে কাজ করছেন। ভোটের ফল ঘোষণার পরপরই এক উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে ইডির এই পদক্ষেপ রাজ্যে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
