US Iran Relations
Bengal Liberty, ৭ জুন ২০২৬ : মধ্যপ্রাচ্যের তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সমঝোতার(US Iran Relations) জোর প্রচেষ্টা চলছে। জটিল পরিস্থিতি যেন আরও জটিল না হয়, সেদিকেই নজর রাখছে দুই রাষ্ট্র। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবার নয়া সমীকরণ হাজির করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এরই মধ্যে দেশের শীর্ষ পরমাণু বিশেষজ্ঞদের কাছে বিশেষ দূত পাঠিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর বিশেষ দূত হিসেবে স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার সম্প্রতি টেনেসির ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে (জাতীয় গবেষণাগার) গিয়েছিলেন। সেখানে পরমাণু প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন তাঁরা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিয়স’-এর রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এই বিশেষজ্ঞ দলটি ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তির সম্ভাব্য আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
আরো পড়ুন:- Tmc Meeting: পরবর্তী মেয়র কে? বৈঠক ডাকলেন মমতা
ফের নয়া সমীকরণের ইঙ্গিত(US Iran Relations)
একদিকে যখন ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আমেরিকার কট্টর ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সামনে এসেছে, অন্যদিকে ঠিক সেই পরমাণু নীতি নিয়েই বিশেষজ্ঞদের কাছে বিশেষ দূত পাঠালেন ট্রাম্প। কিন্তু কেন এই দ্বিমুখী কৌশল অবলম্বন করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট?


আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের দাবি, “বর্তমানে ঘরের মাঠে ও আন্তর্জাতিক স্তরে প্রবল চাপে রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি নিজের দলের ভেতরেও প্রশ্নের মুখে পড়ছে তাঁর অনেক সিদ্ধান্ত। এই পরিস্থিতিতে খবরের শিরোনামে থেকে নিজের গ্রহণযোগ্যতা ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রমাণ করতেই তিনি প্রথাগত নীতির বাইরে গিয়ে চমক দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে এই কৌশলের ভবিষ্যৎ ফল কী দাঁড়ায়, সেটাই এখন দেখার।”
ট্রাম্পের দ্বিমুখী নীতি(US Iran Relations)
ওয়াশিংটন বরাবরই বদ্ধপরিকর যে ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না। ইরানের পারমাণবিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ বা নিষ্ক্রিয় করতে আমেরিকা সব সময়ই চাপ বজায় রেখেছে। তবে বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে একপ্রকার যুদ্ধবিরতি বা উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চললেও, আমেরিকার দেওয়া পরমাণু চুক্তির সব শর্ত মানতে রাজি নয় তেহরান। এই অচলাবস্থার মধ্যেই উইটকফ ও কুশনারের পরমাণু বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের পরমাণু চুক্তির ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়েই এই বৈঠক হয়েছে।

বিশ্বরাজনীতিতে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এখনো কাঁপিয়ে তুলছে আন্তর্জাতিক মহলকে। যুদ্ধের আঁচ শুধু বৃদ্ধি পাচ্ছে না, সাধারণ মানুষও এর ফলে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই ভূ-রাজনৈতিক নাটকের জল শেষ পর্যন্ত কোথায় গড়ায়, এখন সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

